মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সরাইল সহকারী রিটার্নিং অফিসার তথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবার রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। কেন রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
রুমিন ফারহানাকে ২২ জানুয়ারি বেলা ২টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আদালতের সিভিল জজ আদালত) লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর দুটি ইউনিয়ন) সাংসদীয় আসনে আচরণবিধি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রুমিন ফারহানা।
রবিবার রিটার্নিং অফিসার এক চিঠিতে সশরীরে হাজির হয়ে রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শাতে বলেন। এবার ব্যাখ্যা চেয়ে সোমবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এ চিঠি দিয়েছে।
রুমিন ফারহানাকে দেওয়া সোমবারের নোটিশে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্যান্ডেল নির্মাণ করে জনসভা করেন। সে সময় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে রুমিন ফারহানা ও তাঁর সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
গত রবিবার সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।
ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা প্যান্ডেল নির্মাণ করে জনসভা করার সময় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সে সময় রুমিন ফারহানা আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। যার ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও ‘মব’ সৃষ্টি হয় এবং বিচারিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। অভিযোগকারী এনটিভিতে প্রচারিত নিউজের লিঙ্কের ভিডিও সংযুক্ত করা হয়।
রুমিন ফারহানা জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বলে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
কেন রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে রুমিন ফারহানাকে ২২ জানুয়ারি বেলা ২টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আদালতের সিভিল) লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থতায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রার্থীর কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।