ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 12 February 2026, 59 বার পড়া হয়েছে,
আবদুল মতিন শিপন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে একটি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রের একটি বুথে খেজুরগাছ প্রতীকের (জুনায়েদ আল হাবিব) এক এজেন্ট দুইজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারের ব্যালটে নিজে সিল মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি দেখে হাঁস প্রতীকের (রুমিন ফারহানা) এক এজেন্ট প্রতিবাদ করলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সকালে কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রায় ১০ মিনিটের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে ভোটকেন্দ্র থেকে বিনা কারণে কর্মী আটক এবং একাধিক কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, “ভোট শুরু হয়েছে মাত্র দুই ঘণ্টা। সারা দিনের ভোট এখনও বাকি। এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বিনা কোনো দোষে আমার তিনজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়টি ভোটকেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, গতরাতে সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকায় তার একাধিক কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। “আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয়েছে, তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে,” বলেন রুমিন ফারহানা।
রুমিন ফারহানার দাবি, আশুগঞ্জ উপজেলায় আটটি ভোটকেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “সেখানকার কয়েকটি কেন্দ্রে দুপুরের দিকে সিল মারার পাঁয়তারা হচ্ছে—এমন তথ্য আমি পেয়েছি।” বিষয়টি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১টার পর আশুগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন মৃধা ও নূর আলমকে আটক করে পুলিশ। একই রাতে আশুগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর আছিয়া সফিউদ্দীন আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকা থেকে নাছির মুন্সিকে আটক করা হয়। আটক তিনজনই রুমিন ফারহানার কর্মী বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাদের আটক করা হয়েছে।