বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জুলাই শহীদদের কালজয়ী আত্মত্যাগকে স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই রান ২০২৬’। ‘জুলাই শহীদদের ত্যাগ, আমাদের অনুপ্রেরণা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ৫ কিলোমিটারের এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ট্রায়াথলন টাইগারস। প্রতিযোগিতায় সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশন এবং সহযোগিতায় ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রানার্স কমিউনিটি।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সকাল ৬:১৫ মিনিটে শহরের শিমরাইলকান্দি সংলগ্ন ব্রিজ এলাকা থেকে দৌড়টি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২০০ জন দৌড়বিদ অংশ নেন। শিমরাইলকান্দি এলাকা থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত রুট ধরে ৩ কিলোমিটার অতিক্রমের পর আরও ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দৌড়টি বাঙালিয়ানা রেস্তোরাঁ সংলগ্ন এলাকায় এসে সফলভাবে শেষ হয়।
দৌড় শেষে সকাল ৭:০০ টায় এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ফিনিশার সকল দৌড়বিদকে স্মারক মেডেল পরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতার নারী ও পুরুষ—এই দুই ক্যাটাগরিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারকারীদের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহবুব শ্যামল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:প্রফেসর এ কে এম ওবায়দুল হক, অধ্যক্ষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। জহিরুল হক খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি। মো: মুমিনুল হক মোমিন, সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি।ইফরান মাহবুব শ্যামল ও ইয়াছিন মাহমুদ, এমপি মহোদয়ের তনয়। সৈয়দ তৈমুর, সম্মানীয় স্পন্সর ও প্রতিষ্ঠাতা, সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশন
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে আবেগঘন পরিবেশে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। শহীদ মো: হোসাইনের বাবা জনাব মানিক মিয়া এবং শহীদ কামরুল মিয়ার বড় ভাই মো: সেলিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণকালে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শহীদ মো: হোসাইনের পিতা মানিক মিয়া বলেন,“আমার সন্তানের এই মহৎ ত্যাগের প্রতি যে সম্মান জানানো হয়েছে, তাতে পিতা হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। শহীদদের স্মরণে এমন একটি চমৎকার আয়োজন এবং পরিবারকে সম্মানিত করার জন্য প্রধান অতিথি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং আয়োজকদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
আয়োজক সংস্থা ট্রায়াথলন টাইগারস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই শহীদদের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত রাখা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল এই ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য।
সংগঠনের এডমিন ও রেস ডিরেক্টর অলি আহাদ রতন আয়োজনটি সফল করায় সংশ্লিষ্ট সকল অতিথি, স্পন্সর, অ্যাথলেট এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও সচেতন কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, তরুণদের সুস্থ ক্রীড়া চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী দৌড়, সাঁতার ও সাইক্লিং প্রতিযোগিতার মতো ইভেন্ট নিয়মিত আয়োজন করবে ট্রায়াথলন টাইগারস।