ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাইওয়ে পুলিশের অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি (পর্ব-১)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 25 April 2022, 489 বার পড়া হয়েছে,

জুয়েল মিয়া,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাইওয়ে পুলিশ অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজি করে ফুলেফেঁপে উঠেছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মহাসড়কে মাসোহারা দিয়ে প্রায় অবাধে চলছে নিষিদ্ধ তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহন।

চাঁদার টাকা ৩ জন সোর্স দিয়ে কালেকশন করে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। যেসব যানবাহন মাসোহারা দেয় সেগুলোতে বিশেষ ধরনের স্টিকার লাগিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়।অনুসন্ধানে ও গোপনসূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি সুখেন্দ্র বসু সোর্স ছোটনের মাধ্যমে চাঁদার টাকা গ্রহণ করে। আরেক সোর্স জাকিরের এরিয়া মাধবপুর সাতবর্গ হতে আশুগঞ্জ পর্যন্ত। মাধবপুর সাতবর্গ হতে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১৫০টি ট্রাক্টর ও পিকআপ থেকে মাসিক চাঁদা কালেকশন করে হাইওয়ে থানার সোর্স ছোটনের হাতে পৌঁছে দেয় জাকির।ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড় হতে ধরখার পর্যন্ত সড়কের ট্রাক্টর ও রাধিকা হতে কুটি-চৌমুহনী- কালামুড়া ব্রীজ পর্যন্ত এলাকার সিএনজি থেকে মাসোহারা তোলা হয়। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার বেসরকারি ড্রাইভার লিটনের নিয়ন্ত্রিত এলাকা এটা।

এছাড়া আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড ও বিশ্বরোড থেকে মাধবপুর পর্যন্ত লিটনের তত্ত্বাবধানে ‘বিসমিল্লাহ’ নামে ২০টি গাড়ি চলে। ধরখার হতে কুটি চৌমুহনী- কালামুড়া ব্রীজ পর্যন্ত সোর্স শামীমের নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এসব সোর্সের মাধ্যমে মাস শেষে মোটা অংকের চাঁদার টাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসির হাতে এসে পৌঁছে। পিআইও পুলিশ হাইওয়ে ইউনিফর্ম পড়া পুলিশের অপকর্মের তথ্য সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু সেই পিআইও পুলিশ নাসির নিজের মালিকানাধীন নাম্বারবিহীন সিএনজির পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ গাড়ি আটক করলে এলাকার দাবি করে ওসির কাছে তদবির করেন বলে প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন। সরেজমিনে গেলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি ও ট্রাক চালক বলেন, ‘হাইওয়ে থানা পুলিশের যায়গায় যায়গায় লোক আছে। প্রতি মাসের ১০তারিখের মধ্যে ৫০০টাকা পরিশোধ করলে হাইওয়ে থানা থেকে একমাস মেয়াদী নতুন স্টিকার(টোকেন)দিবে।টোকেনটা গাড়িতে থাকলে ধরেনা। হাইওয়ে থানার ড্রাইভার লিটন এবং হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে মাসোহারা করতে হয়। নতুনদের জন্য পাঁচশত টাকা এডভান্স দেওয়া লাগে। বিশ্বরোড এলাকায় গাড়ি চালালে হাইওয়ে পুলিশের পিকাপের ড্রাইভার লিটনের কাছে ৫০০টাকা মাসোহারা করা লাগে। মাসোহারা না করলে গাড়ি আটক করে ফেলে। যার (সোর্স) আন্ডারে (দায়িত্বে) যতগুলো গাড়ি থাকে একেক সময় একেক দারোগা এসে টাকা নিয়ে যায়। আবার সোর্স লিটনের কাছে আমরা টাকা দিলে হাইওয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেয় সে।

মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজিকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, অবৈধ এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে হাইওয়ে পুলিশের অবৈধ বাণিজ্য কমে যাবে।কারণে-অকারণে গাড়ি থামিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া বন্ধ হবে। সোর্স দিয়ে চাঁদাবাজি করা এবং মাদক ও চাঁদাবাজি মামলায় জেলখাটা আসামির সাথে সখ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুখেন্দ্র বসু দায় এড়ানো কথা বলে থানায় এসে বক্তব্য নেন বলে লাইন কেটে দেন।