কোহিনূর আক্তার প্রিয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক কিশোরীকে (১৫) দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খাউজি গ্রামের বাসিন্দা। পেশাগত কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আশুগঞ্জের কলাবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
গত ১০ জুন (বুধবার) রাত আনুমানিক ৮ টায় আশুগঞ্জ উপজেলা শহরের কলাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীর মা তাকে পাশের একটি দোকানে রুটি কিনতে পাঠান। দোকানে যাওয়ার পথে স্থানীয় বখাটে যুবক জাকারিয়া, অনিকসহ তিনজন তার পথরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ভবনের পাঁচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিশোরীর হাত-পা বেঁধে যুবকেরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনাটি কাউকে জানালে কিশোরীর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সপরিবারে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।
ভীতি ও লোকলজ্জার কারণে প্রথম দুইদিন কিশোরী বিষয়টি গোপন রাখে। পরবর্তীতে সে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি জানান, “ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) চলছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে ধর্ষণের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।