স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এসিজি-স্বাস্থ্য’র মতবিনিময়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 30 July 2026, 41 বার পড়া হয়েছে,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুপ্রেরণায় গঠিত অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি-স্বাস্থ্য) এর সাথে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​আজ ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) হাসপাতাল সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তা বজায় রাখতে সেবাগ্রহীতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সাথে ৪ থেকে ৫ জন দর্শনার্থী (ভিজিটর) আসায় সেবার গুণগত মান ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​হাসপাতালের বর্তমান চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ রয়েছে। তবে সাপে কাটা রোগীদের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে আসার আহ্বান জানান তিনি।

​অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, রশিদ ব্যতিত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। জরুরী ওয়ার্ডসহ সব ওয়ার্ডে কর্মরত কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো হকার প্রবেশ করতে না পারে। সেবা প্রদানে অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব বা কেউ অনৈতিক সুবিধা দাবি করলে সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। বক্তব্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, স্বাস্থ্য সূচকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম এবং জাতীয়ভাবে ৫ম স্থানে রয়েছে।

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীদের সাথে অতিরিক্ত দর্শনার্থী আসা নিরুৎসাহিত করতে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মহিলা দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে হাসপাতালের প্রধান গেটে একজন নারী পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তাব দেন তিনি।

​আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শাহীনুর আলম জানান, নিয়মিত রোগীদের খাবারের মান যাচাই ও পরিচ্ছন্নতা মনিটরিং করা হয়। ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে তেলাপোকা ও ছারপোকা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

​সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি পেলে দালাল চক্র আর রোগীদের অন্যত্রে নিতে পারবে না এবং রোগীরাও বাইরে যেতে আগ্রহী হবে না। সেবার মান উন্নত করায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

​শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসিজি-স্বাস্থ্য’র সমন্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিচ্ছন্নতার পরিবর্তনটি দৃশ্যমান।

​টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মো. মোক্তার হোসেন। এছাড়া অন্যান্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ইয়েস ও এসিজি’র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।