ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অজ্ঞাত নারী-পুরুষের মৃত্যু, দাফনের দায়িত্ব নিল বাতিঘর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 29 January 2026, 79 বার পড়া হয়েছে,

মো. আজহার উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক দুই ঘটনায় এক অজ্ঞাতনামা পুরুষ ও এক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃত্যু হয়েছে। উভয় মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে যাচাই-বাছাই চালালেও এখন পর্যন্ত কারও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী মরদেহ দুটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের গাউছিয়া আজিজিয়া মাজারের কাফেলা খানায় এক অজ্ঞাতনামা পুরুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির আনুমানিক বয়স প্রায় ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি মাজারের একজন ভক্ত ছিলেন।

খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পিবিআই তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে ডাটাবেজে যাচাই-বাছাই করলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা নারীর মৃত্যু হয়। তার আনুমানিক বয়স প্রায় ৪০ বছর। জানা গেছে, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সুলতানপুর–আখাউড়া বাইপাস সড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরদিন সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয়ভাবে তার ডাকনাম ‘রাশিদা আক্তার’ জানা গেলেও প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

পুলিশ জানায়, মৃত নারীর মরদেহও ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় এবং তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই চালায়। তবে এখানেও পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হয় তারা।

এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরকে অবহিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “দুইটি অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নারী ও পুরুষ উভয় অজ্ঞাত মরদেহের দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।