সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে যেকেউ সফল হবেনই : জুস বিক্রেতা রাসেল

অর্থনীতি, 11 August 2021, 495 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ রুহুল আমিন : প্রত্যেক মানুষ জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কোননা কোন পেশা বেছে নেন। কেউ মাছ ধরেন, কেউবা জুতা সেলাই করেন আবার কেউবা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উঁচু পদে চাকুরি করেন। এক্ষেত্রে শিক্ষা একটা বিশাল ভূমিকা রেখে থাকে। তবে কাজ ছাড়া বেঁচে থাকা মুসকিল। আবার কেউ কাজ না করে চলতে পারেন, কিন্তু সমাজ তাকে ভালোভাবে নেয় না। তাছাড়া কাজ দিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে অনেক দিন নয় বহুকাল আবার অনন্তকাল। আর তাই মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নেন তার পছন্দের কাজ। এক্ষেত্রে মানুষ একই কাজ করে কেউ কেউ সফলতা পেয়ে সমাজে হন ধন্য আবার ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ তিরষ্কারের পাত্র হন। তারপরও মানুষ থেমে থাকেন না। চেষ্টা করে যায় বারংবার। মোঃ রাসেল হোসেন এমন একজন মানুষ।

আমরা আজ রাসেল হোসেনের জীবনের গল্প বলবো। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহার কালীবাড়ি হজরত শাহরাস্তি(র)বোগদাদী মাজার রোড়ের মাথায় শাহরাস্তি প্লাজা সংলগ্ন ‘বিসমিল্লাহ্ জুস এন্ড ফুসকা ঘর’র মালিক। বিগত মার্চ মাসে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। সারা বাংলাদেশে চলতে থাকা অতিমারী কারোনাকালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই সময়ে তিনি তার ব্যবসা শুরু করেন। তার দোকানে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার টাকা বিক্রী হয়। মায়ের নিকট হতে চেয়ে নেয়া ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। মাসিক গড় আয় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে তার ব্যবসার পুঁজি আড়াই লক্ষাধিক টাকা। মাত্র একটি ফল রাখার চেম্বার নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। দোকানের আয় দিয়েই তিনি ফলের ব্যবসার প্রয়োজনীয় অন্যান্য মালামাল ক্রয় করেছেন। এখন তার দোকানটি ফলের জুস বিক্রীর সকল মালামাল নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। টাটকা নানা ফলের জুস ছাড়াও তিনি ফাষ্ট ফুড়ের কিছু আইটেম বিক্রী করেন। দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রী হয় লেমন জুস ও লাচ্ছি। এখানে ব্যবসা শুরু করার পূর্বে তিনি চট্টগ্রাম শহরে এক ফলের জুস তৈরির দোকানে কাজ করতেন। ফলের জুস’র ব্যবসা করার কাজকে শেষ পর্যন্ত ভালোবেসে তিনি জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসাবে বেছে নেন। কোন গ্রাহক তার তৈরি করা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক নতুন করে ঐ খাবার তৈরি করে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আগে পরিবেশন করা খাবারের মূল্য রাখেন না। তার অধিকাংশ ক্রেতা স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। অনেক সময় গৃহিনীরা বাসা-বাড়ির জন্য এখান থেকে ফলের জুস পার্সেল হিসাবে নিয়ে থাকেন। তার দুঃখ বসার জায়গা কম থাকায় একসাথে অনেককে খাবার পরিবেশন করতে পারেন না।

মোঃ রাসেল হোসেন(২৭), পিতা-আনোয়ার উল্লাহ্, গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের খামপাড় গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি বাবার ৪র্থ সন্তান। অন্য তিন ভাই প্রবাসী। বিবাহিত রাসেল গৃহিনী স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান সহ বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের নিয়ে ভালোই কাটছে তার সংসার। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি ব্যবসার কাজে দোকানে ব্যস্ত সময় কাটান। স্থানীয় স্কুলে তিনি এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।

রাসেল স্বপ্ন দেখেন এক সময় তার দোকানে ৮/১০ জন লোক এক সাথে কাজ করবেন। তিনি নিজেও তাদের সাথে কাজ করে বিপন্ন মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তার দোকানে কর্মরতরা প্রত্যেকে তার সাথ কাজ করে নিজেদের ঘর-সংসার ভালোভাবে পরিচালনা করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনকার ছেলে-মেয়েরা বেশির ভাগই ফেইসবুক, মোবাইলে গেইম ও ভিড়িওতে দেখায় আসক্ত। অধিকাংশ গেইম খেলে ও ভিড়িও দেখে সময় নষ্ট করেন। তাদের প্রতি রাসেলের পরামর্শ মোবাইলেও আয় করার সুযোগ আছে। কিন্তু সেদিকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা খেয়াল না করে অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট করছেন। তাদের প্রতি তার আহবান অযথা ফেইসবুক, মোবাইলে গেইম আর ভিড়িও দেখে সময় নষ্ট না করে মোবাইল থেকে এমন কিছু শিখুন যা শিখে লেখা-পড়া শেষে অর্থ আয় করা যাবে।

নতুন উদ্যোক্তাদের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের পছন্দের কাজ করলে যে কেউ জীবনে সফল হবেনই। জানতে চাইলাম কেউ এই ব্যবসা শিখতে চাইলে শিখাবেন কি-না? জটপট জবাব দিলেন, কেন শিখাবো না। যে কেউ আসলে বিনা পয়সায় শিখতে পারেন। (যোগাযোগের জন্য : ০১৭৪৮-৬৮৭৭৯৮)

আমাদের দেশের যুবকশ্রেণির অধিকাংশই লেখাপড়া শেষে ১০/১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পেতে বছরের পর বছর চাকরির পিছনে দৌঁড়ায়। এই যুবক বেকারদের জন্য রাসেল উদাহরণ হতে পারে। তাই বলবো লেখাপড়া শেষ করে শুধু শুধু চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে তাদের উচিৎ নিজের পছন্দের কাজ ভালো করে জেনে-বুঝে করলে ১০/২০ হাজার টাকা আয়ের জন্য কোথাও দৌঁড়াতে হবে না। আর এমন পছন্দের কাজ করতে পারলে যুবক শ্রেণি বিপদ গামি হবে না। নিজে হবে স্বনির্ভর, হবে একটি সুন্দর জীবনের অধিকারী এবং সবোপরি দেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারবে বিশাল অবদান