মো. আজহার উদ্দিন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আখিতারা গ্রামের তীরকোণা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শামীম মিয়া (৫২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (৩ জুন) রাতে এ ঘটনায় সরাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা আমিনুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বিঘা আয়তনের পুকুরটিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করে পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করলে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি সন্দেহ করা হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় অভিযোগ করেন।
মৎস্যচাষি আমিনুল ইসলাম জানান, তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শামীম মিয়ার বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার রাতে স্থানীয় একজন শামীম মিয়াকে পুকুরপাড়ে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পুকুরে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়া হয়েছিল। এছাড়া মাছের খাদ্য, পরিচর্যা ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে আমাদের প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পুকুরের কিছু মাছ মারা গেলেও এখনও কিছু মাছ জীবিত রয়েছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও প্যারালাইজড বলে জানা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।