হাসপাতালের দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 1 November 2026, 6 বার পড়া হয়েছে,

অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন : সরকারি হাসপাতালের রোগীদের হয়রানি করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সরকারি সফরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় প্রতিটি উপজেলায় ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এরপর আর কোনো সরকার এ খাতে উল্লেখযোগ্য নজর দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার তা ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমতি দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নতুন কোনো ক্লিনিকের অনুমতি দেয়নি। হাসপাতালের সামনে সম্প্রতি কোনো ক্লিনিক চালু হয়ে থাকলে সেটির অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। শর্ত পূরণ না করা ক্লিনিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের সঙ্গে ফার্মেসি ও অটোরিকশাচালকদের যোগসাজশে রোগীদের ওষুধ নির্ধারণ বা অন্যত্র পাঠানোর অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার প্রতিটি হাসপাতালে ১০টি মেশিনসহ একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকবে, যেখানে স্থানীয়ভাবে ২০ জন রোগী সেবা নিতে পারবেন। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দু’টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং উন্নতমানের প্যাথলজি সেবারও ব্যবস্থা থাকবে।
ওয়ার্ড পর্যায়ে ইউনিয়নের অধীন প্রতিটি পুরোনো ওয়ার্ডে একটি করে মেডিকেল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে, যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন মিডওয়াইফগণ। এসব কেন্দ্রে নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং, রক্ত পরীক্ষা, জ্বর এবং উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরীক্ষা করা হবে। রোগীদের তথ্য সংরক্ষণে কার্ড দেওয়া হবে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাস পার হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে চার মাস এমনিতেই চলে গেছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে সব সেবা উন্নত করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের কারণে এ খাতের অবস্থা নিম্নমুখী হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে দুর্নীতিমুক্তভাবে চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য মানুষের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে।

জেলা প্রশাসক মো: আবুসাঈদের সভাতিত্বে ও পৌর বিএনপি সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম ভুইয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কসবা-আখাউড়ার সাংসদ মুশফিকুর রহমান,
অস্ট্রেলিয়া হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারী সাইদ হায়দার , ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম, ব্রাহ্মণাবাড়িয়া সির্ভিল সার্জন মোঃ মিজানুর রহমান, রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংসদ মুশফিকুর রহমানের কন্যা মেহবিন রহমান মুনিয়া, নাতি তারিক জামিল, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক মোঃ ইমরান আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছামিউল ইসলাম, জেলা বিএনপি সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা খন্দকার, উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি ইকলিল আযম, পৌর বিএনপি সাবেক সভাপতি মোঃ আশরাফ আলী, উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ রতন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক দিপু, সদস্য সচিব জিয়াউল হুদা শিপন ও উপজেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল প্রমুখ। এসময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন।