বসন্তে শিমুল বাগান -কোহিনূর আক্তার প্রিয়া

জনতার কন্ঠ, 9 March 2022, 287 বার পড়া হয়েছে,
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়নের সুদৃশ্য জাদুকাটা নদীর তীরঘেঁষে মানিগাঁও গ্রাম। সেখানে জয়নাল আবেদীনের ২ হাজার ৪০০ শতক জমি আছে। সেই জমিতে প্রায় তিন হাজার শিমুল গাছ। গাছে গাছে টকটকে লাল শিমুল ফুল যেমন আছে, তেমনই হালকা কমলা রঙের ফুলও আছে।
বিশাল শিমুল বাগানের একপ্রান্তে দাঁড়ালে অন্যপ্রান্ত দেখা যায় না। বাগানের মাঝখানে অনেক লেবু গাছ। সেগুলো বাগানকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। বোঝা যায়, সারিবদ্ধভাবে সুন্দর পরিকল্পনা করে এটি সাজানো হয়েছে। বাগানের ভেতর যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই শিমুল গাছের সারির সৌন্দর্য। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এত বিশাল শিমুল বাগান দেশের আর কোথাও নেই।
শিমুলের রক্তরাঙা সৌন্দর্য দেখতে গত মার্চের ৩ তারিখ রাতে যাত্রা শুরু করি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তমঞ্চ হতে। কাকডাকা ভোরে সিলেট নগরীতে পৌঁছে যায়। তাহিরপুর পৌঁছাতে তখন সময় সকাল ৮ টা। তারপর নাস্তা খেয়ে সবাই ঘোরাঘুরির পর্যায়ে সঙ্গীদের সাথে কিছু ছবি তুলে চলে যায় অটো যোগে আঁকাবাঁকা মেঠো পথে নীলাদ্রি পাহাড়ে। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হয় এবং পাহাড়ের সর্বোচ্চ উঁচু চূড়ায় উঠে সবাই ছবি তোলা নিয়ে কি যে ব্যস্ত।
নীলাদ্রি পাহাড়ের সামনে একটা অনেক সুন্দর নদী আছে। নদীতে কয়েক জন গোসল দিয়েছে, আবার অনেকে জাদুকাটা নদীতে গোসল দিয়েছে। ধুলোমাখা পথ ধরে চলে আসে বারিক্কা টিলা পাহাড় বেয়ে এই ভর দুপুরে যাদুকাটা নদীর তীরে হেঁটে উঠি অটোতে দুপুরবেলা পৌঁছাই শিমুল বাগানে। আবার শতসহস্র রক্তিম লাল শিমুল দেখে ক্লান্তি অনেকটা ভুলে মন জুড়ালো।
বাগানের ভেতরে যেদিকে তাকাই শুধু লাল আর লাল। গাছে গাছে লাল ফুল। গাছের নিচে মাটিতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ফুল। গাছ থেকে ফুল মাটিতে পড়ছে, থপ করে শব্দ হচ্ছে। ধুলোমাখা মাটি যেন ফুলে ফুলে সাজানো লালগালিচা! রূপকথার কোনও রাজ্য মনে হতে পারে একঝটকায়। এরপর দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে। আবার চলে যায় শিমুল বাগানে গিয়ে লটারি টিকিট কাটি এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রথম পুরস্কার মোকাদ্দেস মোবাইল দ্বিতীয় পুরস্কার পলাশ তৃতীয় সুমাইয়া পুরস্কার চতুর্থ পুরস্কার জীবন পঞ্চম পুরস্কার তাহুমনি তারপর সবাই ছোটাছুটি করে যার যার গাড়িতে এসে বসে। আবার যাত্রা শুরু করে দেই বাড়ির পথে রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল পেটের খিদায় কি যে যন্ত্রনা আর সিলেট শহরে কোন এক কারণে দেড় ঘন্টা লেইট কি যে এক বিরক্তকর ঘটনা যাক সব মিলিয়ে মোটামুটি সুন্দর সুষ্ঠু ভাবে বৈচিত্র্যময় ট্রাভেলিং গ্রুপটি সুন্দর একটি ভ্রমণ উপহার দিল। ধন্যবাদ জীবন আহমেদ সালাউদ্দিন ভবিষ্যতে আরও সুন্দর সুন্দর জায়গা ভ্রমণ দিবে। আর আশা করি আরো দায়িত্ববান হবে।