কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 21 August 2026, 1 বার পড়া হয়েছে,

অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রাতে কলাবাগান দেখতে বের হয়ে নিখোঁজের দু’দিন পর বাড়ির পাশের ডোবার কচুরীপানার নীচে মিললো নায়েব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধ্বজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নায়েব আলী ওই গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের পুত্র। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবী, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় তাকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

নিহতের ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মনির হোসেন বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ন’টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রতিদিনের মতো ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির পাশে চাষকৃত কলাবাগানে যান নায়েব আলী। তিনি সবসময়ই কলাবাগান দেখে আবার বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু বুধবার রাতে বের হওয়ার পর ফিরে না আসায় গভীর রাতে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে বের হন। কলাবাগানসহ আশপাশ এলাকার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি নায়েব আলীকে। খোঁজাখুজির সময় কলাবাগান ও ডোবার পাশে তার ব্যবহৃত টর্চ লাইট, লুঙ্গি গামছা, বিড়ির প্যাকেট ও গ্যাসলাইট ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সীমান্তের আশপাশের সব জঙ্গল খুঁজেও মিলেনি বৃদ্ধ নায়েব আলীকে। হতাশাগ্রস্ত পরিবারের লোকজন তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সূত্র ধরে সর্বশেষ বাড়ির পাশে কচুরিপানা ভরপুর ডোবায় খুঁজতে থাকেন। শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে ঐ ডোবায় মিলে বৃদ্ধ নায়েব আলীর লাশ। লাশ উদ্ধারের পর দেখা যায় পীঠে আঘাতের চিহ্ন। এই চিহ্ন দেখে পরিবার ও গ্রামবাসী ধারণা করেন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নায়েব আলীর লাশ ডোবায় ফেলে রেখে চলে যায় হত্যাকারীরা। নিখোঁজ সংক্রান্ত কোন জিডি থানায় করেনি পরিবার।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, নায়েব আলী প্রায় সময় স্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ীদের বাধা দিতেন এবং গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড কমিটি আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় মাদক কারবারিদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গার সময় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরিবাররে ধারণা, মাদক ব্যাবসায়ীদের কিংবা রাজনৈতিক রোষাণলের শিকার হয়েছেন তিনি। দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবী পরিবারের লোকজনের।

এ বিষয়ে কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর নিহতের শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন ও কালো কালো দাগ দেখা গেছে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।