নিজস্ব প্রতিবেদক|পেনসিলভেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সুদূর আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের দেলোয়ার কাউন্টিতে আয়োজিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা ক্লাব পার্টিসেন্টারে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব দেলোয়ার কাউন্টি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা একুশে পদকপ্রাপ্ত ডঃ নূরুন নবী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা একুশে পদকপ্রাপ্ত জনাব কাদের কিবরিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মুবিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জাফর ভূঁইয়া, মিলবোরন বরোর মেয়র জনাব মাহবুবুল তৈয়ব, আপার ডার্বি মেয়র এড ব্যারাউন, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব দেলোয়ার কাউন্টি’র সভাপতি কাজী সাখাওয়াৎ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আজিম।

এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট হেড এন্ড নেক সার্জন ডক্টর আশিকুর রহমান ভূঁইয়া এবং ‘জনতার খবর’-এর প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট আইনজীবী সেলিনা বেগম।
পেনসিলভেনিয়া ও ফিলাডেলফিয়ার অসংখ্য প্রবাসী বাঙালি পরিবারের অংশগ্রহণে মুখরিত ছিল এই উৎসব। পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সামাজিক কর্মী ও ‘রসুই ঘর’-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জীবন, মো. সাখাওয়াত, ও মো. আজিম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান জীবন বর্তমানে আমেরিকান পোস্টাল বিভাগে কর্মরত থাকলেও প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতি লালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
উৎসবে বাঙালি গৃহিণীরা হরেক রকমের দেশি পিঠার স্টল সাজিয়ে বসেন। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে নানা পদের বাহারি পিঠা যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাংলাদেশকেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
পিঠা উৎসবের পাশাপাশি আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন: কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া। বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী দিলরুবা খানমের সুযোগ্য কন্যা।
যান্ত্রিক প্রবাস জীবনে বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে এই পিঠা উৎসব স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, বিদেশের মাটিতে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও বিজয়ের চেতনা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ অনন্য ভূমিকা রাখবে।
উৎসবের সমাপ্তি ঘটে এক আনন্দময় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে, যেখানে ছোট-বড় সবাই মিলে বাংলার ঐতিহ্যকে উদযাপন করেন।