ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রিজ থেকে নারীর নদীতে ঝাঁপ, জীবন বাজি রেখে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 26 August 2026, 16 বার পড়া হয়েছে,

আদিত্য কামাল : সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অমিত হাসান। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ২৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন তিনি।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম ব্রিজে (হাসিনা সেতু) এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

​কনস্টেবল অমিত হাসানের বিদায় উপলক্ষে সহকর্মী কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও ইফরান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই এলাকায় ঘুরতে ও নাশতা করতে গিয়েছিলেন। নারীটিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখামাত্রই অমিত হাসান এক মুহূর্ত দেরি না করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সাঁতরে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে একটি নৌকার সহায়তায় তাকে নদীর পাড়ে এনে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নারীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাধিকা-জগতসার গ্রামে ওই নারীর বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জের স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক কলহ ও স্বামীর ওপর অভিমান থেকেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নেয় এবং পরিবারকে খবর দেয়। রাত ১২টার দিকে উদ্ধারকৃত নারীকে তার মা ও বোনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

​কনস্টেবল অমিত হাসানের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও চরম সাহসিকতার প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিপদের মুহূর্তে নিজের জীবনের পরোয়া না করে এক নারীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য উদ্ধারকৃত নারীর পরিবার ও সর্বসাধারণ পুলিশের এই মানবিক ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।