শেখ কামাল উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে দেশের ৩২ জেলায় “সীমান্ত সমাবেশ” এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশের হুঁশিয়ারি দেন দলের মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে নিহতদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। নিহত কলেজছাত্র মুরসালিন ও নবীর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানিয়ে তাদের খবরা-খবর নিয়েছেন।
পরে কসবা উপজেলা এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নিহত হলেও সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। সীমান্তের সাধারণ মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত। অথচ সীমান্তে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিএসএফের গুলিতে নিহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যদি কোনো অপরাধ করেও থাকে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার করা যেতো। কিন্তু বিচার না করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু সংবিধান বোঝেন, কিন্তু সার্বভৌমত্ব বোঝেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এসব নাটক বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হলে দেশের ৩২ জেলায় সীমান্ত সমাবেশ করা হবে।
পরে শহীদ পরিবারগুলোকে নিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সীমান্ত সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। প্রয়োজনে লংমার্চ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিজিবির ভূমিকারও সমালোচনা করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নিহতদের ওপর দোষ চাপিয়ে ভারতীয় বক্তব্যের মতো প্রেসবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি দাবি করেন, এনসিপি সরকার গঠন করতে পারলে সীমান্তবর্তী এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মাদক পাচার রোধ করা যায়। তিনি বলেন, ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচার বাড়ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের যুবসমাজের ওপর পড়ছে। বাংলাদেশে এত ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা আসে কীভাবে? এই প্রশ্নের জবাব স্বরাষ্ট্র বিভাগকে দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লাল ও সবুজ চুড়ি পরে বসে থাকা দরকার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের অনেক এমপি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। না হলে ঢাকায় এত মাদক আসে কীভাবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
ভারতের সমালোচনা করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ভারতের দাদাগিরি মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ক্ষমতায় এলে সীমান্ত এলাকায় খাল খনন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে সরকার ভয় পায় না বলে দাবি করা হলেও কেন সীমান্তে মানুষ মারা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো কার্যকর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না।
মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সারা দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এসময় সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সংঘটিত এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
সফরে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উইং সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আদেল।