কসবায় মনকাশাইর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 1 June 2026, 2 বার পড়া হয়েছে,

শেখ কামাল উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের মনকাশাইর বাসস্ট্যান্ড বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীগণ জানান, এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১টায় ওই বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিদগ্ধ সেবা মেডিসিন হল, পপুলার ফার্মেসি, আনু স্টোর এবং একটি চা স্টল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য এগিয়ে আসেন। একই সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে খবর পেয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে আগুন লাগার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীগণ জানান, ঈদকে সামনে রেখে তারা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে পর্যাপ্ত মালামাল উঠিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। অগ্নিপাতে সবকিছু পুড়ে ছাই হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বাজারে আগামী সোমবার ঈদ উপলক্ষে গরুর হাট বসার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীগণ দোকানে অতিরিক্ত পণ্য মজুত করেছিলেন।
খাড়েরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহন মিয়া বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি দোকানে প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল। অন্য দোকানগুলোতেও বিপুল পরিমাণ মালামাল উঠানো হয়েছিলো। ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখীন হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে কসবা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মানিক সিকদার জানান, দুপুর সোয়া ১টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে ১ ঘণ্টা চেষ্টা করে দুপুর সোয়া ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
দোকানীদের এ ক্ষতি পূরণের কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানান।