শীতের আমেজে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধূম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 21 December 2021, 331 বার পড়া হয়েছে,
কোহিনূর আক্তার প্রিয়া, জনতার খবর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতে জমে উঠেছে হরেক রকমের পিঠার ব্যবসা। শীতের আমেজে শেষ বিকাল থেকে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত চলে এসব দোকানে বেচাঁকেনা। প্রতিটি দোকানেই থাকে নানা বয়সী ক্রেতাদের ভীড়। নিম্নবিত্ত থেকে মর্ধ্য বিত্তের লোকেরা ফুটপাত থেকে পিঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বাসা-বাড়িতে।
সারা বছরই জেলা শহরের ৪/৫ স্হানের ফুটপাতে ভাসমান ব্যবসায়ীরা পিঠা বিক্রি করলেও শীত পড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত ছাড়াও পাড়া-মহল্লার মোড়ে দেখা মিলছে ভাসমান পিঠা বিক্রির দোকান।


সরেজমিনে ঘুরে ও কথা বলে জানা যায়, মূলত শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষই তাদের প্রধান ক্রেতা। পৌর সুপার মার্কেট, সিটি সেন্টার, আধুনিক পৌর সুপার মার্কেট, কোর্ট রোড, মসজিদ রোড, হাসপাতাল রোড, কুমারশীল মোড়, সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, রেলওয়ে ষ্টেশন রোড, কান্দিপাড়া মাদরাসা রোড, কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ ময়দান, ডাঃ ফরিদুল হুদা রোড, কাউতলী জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনে সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোডের ফুটপাত ও শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তার মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রি হচ্ছে।
এসব দোকানে ছিটা পিঠা, চিতই পিঠা, মেরা পিঠা (চোয়া পিঠা), ভাঁপা পিঠা, পোয়া পিঠা (তেলের পিঠা), পাটিসাপটা পিঠা বেশী বিক্রি হয়। তবে কনকনে এই শীতে ভাপা পিঠারই কদর বেশী।
ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী খেজুরের গুড়, ধনেপাতা ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাঁপা পিঠা তৈরী করে দেয়া হয়। এছাড়া চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদেরকে সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেয়া হচ্ছে। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুন খুশী। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ১০টাকা, চিতই পিঠা ১০টাকা এবং ছোট সাইজের চিতই পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়।
ভাঁপা পিঠা বিক্রেতা কুদ্দুস মিয়া জানান, প্রতিদিন তিনি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। শীতকাল ব্যতীত বছরের অন্য সময়ে প্রতিদিন ৫/৬ কেজির চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি হতো। বর্তমানে ১০/১২ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন। প্রতিদিন দুপুর ৩টার পর থেকে রাত প্রায় ১০ পর্যন্ত চলে তার বেঁচা কেনা। সব খরচ বাদ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০০/৭০০ টাকা লাভ হয়।
পিঠা বিক্রেতা হোসনে আরা বেগম বলেন, এখানে চিতই ও ভাঁপা পিঠাই বেশী বিক্রি হয়। ধনে পাতা ও কাঁচা মরিচ এবং নারকেল-খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী ভাঁপা পিঠার চাহিদাই বেশী। অনেকেই তার কাছ থেকে পিঠা কিনে বাসা-বাড়িতে নিয়ে যান। চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেওয়া হয়। প্রতিদিন ৭/৮ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন।
পিঠার কিনতে আসা জীবন আহমেদ বলেন, শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা আমাদেরকে নানা রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। এখন মা-চাচীরা আর হাতে পিঠা তৈরী করেন না। তাই সময়-সুযোগ পেলেই তারা শহরের ফুটপাত থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যান বাসা বাড়িতে।
আরেক ক্রেতা কলেজ পড়ুয়া সাব্বীর আহমেদ বলেন, হোস্টেলে থাকি গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সাথে ইচ্ছে করলেই পিঠা খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই প্রায়ই ফুটপাত থেকে পিঠা কিনে হোস্টেলে নিয়ে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একসাথে খাওয়া হয়।