নিজস্ব প্রতিবেদক : বুয়েটে তখন শেষ সেমিস্টারের ব্যস্ততা। ক্লাস, প্রজেক্ট আর থিসিসের চাপে যখন নাভিশ্বাস ওঠার দশা, ঠিক তখনই আবরার রহমানের ই-মেইলে ভেসে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত বার্তা। স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই সরাসরি পিএইচডির ডাক পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে। শুধু কর্নেল নয়, এরপর একে একে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলিসহ মোট সাতটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নসহ (ফুল ফান্ডেড) পিএইচডির প্রস্তাব পান তিনি।
আবরার রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং প্রথম বর্ষ থেকে নেওয়া সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির ফসল।
আবরার জানতেন যে, অনার্সের চতুর্থ বর্ষে থাকাকালীনই যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি পিএইচডির জন্য আবেদন করা সম্ভব। তিনি বলেন, “আমি জানতাম, শুধু ভালো ফল করলেই হবে না। গবেষণায় নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে হবে।” মেশিন লার্নিং ও কম্পিউটেশনাল বায়োলজি—এই দুই ক্ষেত্রের মেলবন্ধনে গবেষণা করতে পছন্দ করেন আবরার। গণিতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তাঁর এই পথচলা। প্রথম বর্ষের শেষ দিকেই গবেষণার হাতেখড়ি হওয়া এই তরুণ জানান, গাণিতিক বিশ্লেষণ বা ম্যাথমেটিক্যাল অ্যানালাইসিস তাঁর সবসময়ই প্রিয় ছিল।
একাডেমিক অর্জনেও আবরার অনন্য। তাঁর সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৯৬। তবে কেবল ভালো গ্রেডই নয়, গবেষণাতেও তাঁর মুন্সিয়ানা চোখে পড়ার মতো। এ পর্যন্ত তাঁর সাতটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। আবরারের মতে, শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই, কাজের গুণগত মান বা পদ্ধতিগত নতুনত্বই আসল।
তৃতীয় বর্ষ থেকেই বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন আবরার। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন:
”শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পেতে হলে একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা ও সুপারিশপত্র—সবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি অধ্যাপকদের সাথে কাজ করায় আমার সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) পেতে সুবিধা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।”
আবেদন প্রক্রিয়ার অন্যতম কঠিন ধাপ হলো সাক্ষাৎকার। বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির জন্য তাঁকে পাঁচ দফা কঠিন ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। আবরারের মতে, নিজের কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ও গভীর ধারণা না থাকলে এই ধাপ পার করা অসম্ভব।
আবরার রহমানের এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক লক্ষ্য এবং প্রথম বর্ষ থেকে গবেষণামুখী প্রস্তুতি থাকলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব।