এইচ,এম জাকারিয়া জাকির : ইতালির গৃহস্থালি ও পারিবারিক পরিচর্যা (Home Care) খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রচলিত ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সিজিআইএল (CGIL)। সংগঠনটির অধিভুক্ত শাখা ‘ফিলকামস সিজিআইএল’ (Filcams CGIL) বর্তমান নিয়োগকাঠামোকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বর্তমান পদ্ধতিটি ইতালীয় পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, বরং শ্রমিক শোষণ ও অনিয়মের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংগঠনটির প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালির গৃহস্থালি ও পারিবারিক পরিচর্যা খাতে নিয়োজিত মোট কর্মীর ৮৮.৭ শতাংশই নারী। অথচ ডিক্রেতো ফ্লুসির আওতায় আসা আবেদনকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই পুরুষ। বাস্তব চাহিদার সাথে এই বিপরীতমুখী পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, বর্তমান কোটাভিত্তিক পদ্ধতিটি ইতালির আসল শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইতালির জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা (INPS)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বৈধভাবে নিবন্ধিত গৃহস্থালি শ্রমিকের সংখ্যা ২.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৮ লাখ ৪ হাজারে নেমে এসেছে।
এছাড়া ইতালির গৃহস্থালি খাতে সিংহভাগ কর্মী (৩৩.৫%) আসেন পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে, যাদের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু ফ্লুসি ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন অনেক দেশ থেকে আবেদন করা হচ্ছে, যাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে।
‘ক্লিক ডে’ (Click Day) নির্ভর লটারি বা দ্রুত আবেদনের এই ডিজিটাল প্রতিযোগিতাকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে ফিলকামস সিজিআইএল চার দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে: লটারি বা আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিকের ‘ক্লিক ডে’ ও নির্ধারিত কোটাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তন করতে হবে। বিদেশি কর্মীদের ইতালিতে এসে সরাসরি কাজ খোঁজার জন্য ‘জব-সিকার ভিসা’ (Permesso per ricerca lavoro) চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ইতালিতে অবস্থানরত নথিবিহীন বা অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিত করার (রেগুলারাইজেশন) সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মী নিয়োগের আইনি কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সিজিআইএলের এই জোরালো অবস্থান ইতালির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিক্রেতো ফ্লুসির মাধ্যমে ইতালিতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সিজিআইএলের এই সুপারিশগুলো নীতিগত দাবির পর্যায়ে রয়েছে। ইতালি সরকার বা অভিবাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক এখনো কোনো আইনি পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
