আজ ২৫শে বৈশাখ। বাঙালির হৃদস্পন্দনে আজ এক অন্যরকম অনুরণন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাঙালি জীবনে রবীন্দ্রনাথ আজও প্রাত্যহিক সূর্যের মতো—অনিবার্য এবং অম্লান।
রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন কবি নন; তিনি আমাদের শোকের সান্ত্বনা, আনন্দের উদ্ভাস এবং সংগ্রামের প্রেরণা। আমাদের জাতীয় সংগীত থেকে শুরু করে বিরহের নিভৃত মুহূর্ত—সবখানেই তিনি মিশে আছেন। যখন আমরা শব্দ হারিয়ে ফেলি, তখন রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাষা দেন। যখন আমরা দিশেহারা হই, তাঁর দর্শন আমাদের পথ দেখায়।
বর্তমান অস্থির বিশ্বে রবীন্দ্রনাথের ‘বিশ্বমানবধর্ম’ বা ‘ইন্টারন্যাশনালিজম’ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি চেয়েছিলেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন, যেখানে ঘৃণা বা বিভেদ নয়, বরং মানুষের সাথে মানুষের আত্মিক যোগই হবে প্রধান। ১৬৫ বছর পর দাঁড়িয়ে তাঁর সেই আহ্বান আজও সমানভাবে সত্য:
”মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ।”
কবিগুরুর কাছে প্রকৃতি ছিল এক জীবন্ত সত্তা। তাঁর শান্তিনিকেতনের শিক্ষা দর্শন বা পল্লী উন্নয়নের ভাবনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ টিকে থাকতে পারে না। আজকের জলবায়ু সংকটের যুগে রবীন্দ্রনাথের সেই বৃক্ষরোপণ উৎসব আর ঋতুভিত্তিক উদযাপনের গুরুত্ব নতুন করে অনুধাবনের দাবি রাখে।
রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট কাল বা সীমানার গণ্ডিতে আবদ্ধ নন। তিনি চিরকালীন এবং চির-আধুনিক। ১৬৫তম এই জন্মতিথিতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত তাঁর জীবনবোধকে কেবল চর্চায় নয়, বরং ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করা। তাঁর সৃষ্টির আলোয় আমাদের অন্ধকার দূর হোক, রুচিবোধ উন্নত হোক এবং আমরা হয়ে উঠি প্রকৃত ‘মানুষ’।
আজকের এই বিশেষ দিনে তাঁরই ভাষায় গেয়ে উঠি:
“তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই / কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই।”
-আদিত্ব্য কামাল, সম্পাদক জনতার খবর