সারাদেশ, 22 March 2026, 27 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সাতক্ষীরা থেকে : সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন এখন মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা মাদক, আর স্মার্টফোনের আড়ালে চলছে সর্বগ্রাসী অনলাইন জুয়া। এই দুই মরণব্যাধির কবলে পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ইউনিয়নের হাজারো তরুণ ও যুবকের ভবিষ্যৎ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এবং প্রশাসনের অসাধু চক্রের পরোক্ষ প্রশ্রয়ে এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পারিবারিক অশান্তি ও আত্মহত্যার হুমকি অনুসন্ধানে জানা যায়, আটুলিয়া ইউনিয়নের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি এই নেশায় আসক্ত হচ্ছে। অনলাইন জুয়ায় টাকা হেরে এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা পরিবারের ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করছে। সহায়-সম্বল বিক্রি করে সন্তানের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক বাবা-মা আজ নিঃস্ব। এমনকি মাদকের টাকা না পেয়ে নেশাগ্রস্ত সন্তানদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছেন অভিভাবকরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনেক পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ‘মাস্টার এজেন্ট’ ও ‘ডিলার’
স্থানীয়দের দাবি, আটুলিয়া ইউনিয়নে মাদক বিক্রির সুনির্দিষ্ট ডিলার এবং অনলাইন জুয়ার বেশ কয়েকজন ‘মাস্টার এজেন্ট’ সক্রিয় রয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এদের নেপথ্যে খুঁটির জোর হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি। এই ‘গডফাদার’দের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে অপরাধীরা বীরদর্পে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইনের লোকজনের নিরবতা এবং সঠিক তদন্তের অভাব এই অপরাধী চক্রকে আরও সাহসী করে তুলছে।

আটুলিয়ার জনগণের আর্তনাদ গ্রামের সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি— “আমাদের সন্তানদের বাঁচান।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী পিতা বলেন, “জুয়া আর মাদক আমাদের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। চোখের সামনে ছেলেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আটুলিয়া ইউনিয়নে শিক্ষিত বা সুস্থ কোনো যুবক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আটুলিয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন: অবিলম্বে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট ও মাদক ডিলারদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে।

এই সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা তথাকথিত “সম্মানীয়” প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং সুস্থ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
যুবসমাজ একটি দেশের সম্পদ, বোঝা নয়। কিন্তু আটুলিয়ার চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সময় থাকতে এই বিষবৃক্ষ উপড়ে না ফেললে সাতক্ষীরার এই জনপদ এক সময় মেধাশূন্য ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হবে।