শহরে সাচ্ছন্দ্যে পথচলার অধিকার খর্ব থেকনা-র যন্ত্রণায় পথ চলা দায়

সোসাল মিডিয়া, 4 July 2022, 463 বার পড়া হয়েছে,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পথচলার স্বাভাবিক সাচ্ছন্দ্য দিন দিন ভাটার দিকে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঝড় বৃষ্টিপাত আর জলাবদ্ধতার পর শহরের বিভিন্ন সড়কগুলোর আসল রূপ বেড়িয়ে আসছে। খানা খন্দক গর্ত। ছেঁড়া কাথার মতো রূপ নিয়েছে সড়কগুলো। চার চাকার যানবাহনে ঝাঁকুনী নেই কিন্তু রিক্সায় চড়ে এ পথে যাতায়াত এখন চরম দূর্ভোগের। স্থানীয় ভাষায় “থেকনা -”র (ঝাকুনীর) জন্য এখন অনেকে রিক্সায় চড়তে চান না। কম বয়সীদের শরীরে এর প্রভাব কম থাকলেও বেশী বয়সীদের জন্য এ পরিস্থতি দুঃসহ যন্ত্রণার। রোগী ও প্রসূতিদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। শহরের মৌলভীপাড়া থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত সড়ক দেখলেই এর প্রমাণ মিলবে। শুধু মাত্র খানা খন্দকই নয়, স্থানে স্থানে অবৈধভাবে সড়কের উপর তৈরী করা হয়েছে স্পীড ব্রেকার। এ পথে গেলে থেকনা ছাড়া উপায় নেই। পথচালার এ দুঃসহ এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের। সাময়িক সংস্কারেরও নাম নিশানা পাওয়া যায় না। শহরে যানজট নিয়ে দূর্ভোগের কথা নতুন নয়, ফাঁড়ি সড়ক গুলোর এ করুণ দশায় শহরের বিষফোঁড়া বলে চিহ্নিত মোটর চালিত অটো রিক্সা গুলোও দায়ী। এসব রিক্সায় চলে ঘোড়ার গতিতে। চালক যারা তাদেরও প্রশিক্ষণ নেই, পায়ের উপর পা তুলে মেশিন চালিয়ে চালাচ্ছে ঘোড়ার গতির রিক্সা। কচি হাতে অল্প বয়সীরা বেশী গতির অটো রিক্সা চালাচ্ছে। হ্যান্ডেলে নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পেরে ঘটাচ্ছে দূঘটনা। অটো রিক্সা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অভিযানের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। অভিযান গুলোকেও লোক দেখানো বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। রসাল মন্তব্যও আছে । ভুক্তভোগী কেউ কেউ বলেছেন “ যাদের উপর পরিবর্তনের দায়িত্ব, তারা রিক্সা আর পায়ে হেঁটে পথ চলেন না, চলেন স্প্রীং লাগানো দামী যান্ত্রিক গাড়িতে। থ্যাকনা জ্বালা বুঝবেন কি করে? শহরের মসজিদ রোডে আগে শুধু যানযট ছিল, এখন সবজট এখানে। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের কাপড় ছিড়ে নিচ্ছে রিক্সা। যানজটে হাতাহাতি মারামারি হচ্ছে গালাগালি সবসময়। তবে এসব বিষয় উপর পর্যন্ত নজরে আসেনা, তারা টেরও পায়না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নামটি যত সুন্দর বিশৃঙ্খলতায় বা প্রতিদিনের চিত্র দেখলে সেই সুন্দর আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ঈদকে সামনে রেখে চিত্রের রূপ আর ভয়াবহ হচ্ছে। তবে শহরে হকার উচ্ছেদে বাঁশী ফুঁ-দেয়া পার্টির অভিযান কিছুটা মনে আশার আলো ছড়ালেও কিছুক্ষণ পরই সেই অভিযান বা চেস্টা নিষ্ফল হয়ে যায়। বেরসিক এক ভুক্তভোগীর দাবী , শহরের দায়িত্ব প্রাপ্তরা গাড়ি ছেড়ে রিক্সায় চড়ুক তবে তা সুস্পষ্ট হবে। “থেকনা খেলে থেকনা” যাবে। তবে শহর বাসী এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ঈদের পূর্বেই সড়কগুলোর খানা খন্দক গর্ত ভরাটের দাবী করেছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক আল-আমিন শাহীন এর ফেইসবুকে পাতা থেকে।