কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নকে কসবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 12 June 2026, 3 বার পড়া হয়েছে,

অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন,বিশেষ প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৬ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নকে কসবা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সাথে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মেতে উঠেছেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন ও কসবাবাসী। নিজেদের অস্তিত্ব, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পরিচয় রক্ষার দাবিতে শুক্রবার (১২ জুন) গোপীনাথপুর বাজারে শতশত মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ।
মানববন্ধনে উপস্থিত সর্বস্তরের জনতা মিলিত কণ্ঠে ঘোষণা দেন, গোপীনাথপুর কসবার ছিল, কসবার আছে, ভবিষ্যতেও কসবার উপজেলাতেই থাকবে। কোনো অপশক্তি বা ষড়যন্ত্রকারীগোষ্ঠীদের গোপীনাথপুর ইউনিয়নকে কসবা থেকে আলাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না।
বক্তারা বলেন, গোপীনাথপুরের মানুষ জন্ম থেকে বেড়ে উঠেছে কসবার পরিচয়ে। কসবার সঙ্গে এই জনপদের রয়েছে নাড়ির টান, ইতিহাস ও আবেগের গভীর সম্পর্ক। হঠাৎ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের জন্য গোপীনাথপুর ইউনিয়নকে কসবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, যারা গোপীনাথপুরকে কসবা উপজেলা থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করছে, তারা এই এলাকার মানুষের আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে তামাশা করছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা করা হলে গোপীনাথপুরবাসী রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে তাদের রুখে দাঁড়াবে।
এসময় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও সামাজিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ থাকে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, গোপীনাথপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও ইফাদ গ্রুপের পরিচালক মামুনুর রশীদ খান হেলাল, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি বশির আহমাদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন হেলাল, আনোয়ার হোসেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ রতন, যুবদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, ছাত্রনেতা রাজু আহমেদ-সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও বিগত সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) এলাকায় বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত কবির আহমেদ ভূইয়া আখাউড়ায় একটি ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গোপীনাথপুর ইউনিয়নকে কসবা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গোপীনাথপুর ও কসবাবাসী। এলাকাবাসী ধারাবাহিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, গোপীনাথপুর শুধু একটি ইউনিয়নের নাম নয়, এটি কসবার ইতিহাসের অংশ। সেই ইতিহাস মুছে ফেলার হীন অপচেষ্টা জনগণ জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করবে।