আদিত্য কামাল : সময় যে কতটা দ্রুত বয়, তা গত ৩৬৫ দিনে মূহুর্তে মূহুর্তে অনুভব করেছি। দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল। গত বছরের আজকের এই দিনটিতে—২৪ জুলাই, ভোর ৫টায়—আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা, মো. নূরু মিয়া, আমাদের ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে যান। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি তাঁর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভোরের যে আলো প্রতিদিন নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে, গত বছরের ২৪ জুলাইয়ের সেই শান্ত ভোরটি আমাদের পরিবারে নিয়ে এসেছিল এক বুকফাটা অন্ধকার। আজ আবার সেই ২৪ জুলাই। চারপাশের সবকিছুই আগের মতো চলছে, শুধু নেই আমার বটবৃক্ষ—আমার আব্বা।
বাবা শব্দটির মাঝে লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত নির্ভরতা। ছোটবেলা থেকে জীবনের প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে যিনি ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, তিনি আজ আর নেই—এই সত্যটা মেনে নেওয়া এখনো কঠিন। জীবন চলার পথে প্রতিনিয়ত তাঁর অভাব অনুভূত হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে, কোনো সংকটে বা আনন্দের দিনে—সবকিছুতেই তাঁর সেই স্নেহমাখা উপস্থিতি ও পরামর্শ বড্ড মনে পড়ে।
তিনি ছিলেন একজন সহজ-সরল, সৎ ও সাদা মনের মানুষ। বার্ধক্যের শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে কিছুটা ক্লান্ত করেছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর হৃদয়ের সৌন্দর্য ও নীতি থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। তাঁর আদর্শ, তাঁর কথা এবং তাঁর রেখে যাওয়া ভালোবাসা আজও আমাদের জীবন চলার পথের দিশারী।
আজ আব্বার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে চোখ ভিজছে বারবার। তবে এই চোখের জল কেবলই বিচ্ছেদের নয়, এটি এক গভীর ভালোবাসা ও ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর শ্রদ্ধার প্রকাশ। আব্বা শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমাদের অস্তিত্বে, ভাবনায় এবং রক্তে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা করি—তিনি যেন আমার প্রিয় আব্বাকে মাফ করে দেন, তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন।
সবাই আমার আব্বা মো. নূরু মিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে শান্তিতে রাখেন।