মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমিনা আক্তার জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন মঙ্গলবার ধার্য করেন। শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওএসসিসি) ফাহমিদা আক্তার রিংকিসহ কয়েকজন আইনজীবী সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এ কে আজাদ রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি ও বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি সুফিয়া বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রবিবার ধার্য করেন। পরে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানিও রবিবার দিন ঠিক করা হয়।
রবিবার সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে বিচারক এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির রিমান্ড আবেদনের কারণ জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
বিচারক জিজ্ঞাসা করলে, এজাহারনামায় উল্লিখিত আসামিদের রিমান্ড আবেদন করা হয়নি কেন? তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল মিয়া জবাব দেন, তথ্য সহজে পাওয়া যাবে বিবেচনায় এই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্যদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
এতে বিচারক বলেন, প্রথমে একজন, পরে আরেকজনের রিমান্ড আবেদন করবেন? সবার একসঙ্গে আবেদন দিন, শুনানিও একসঙ্গে হবে।
এ অবস্থায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসেন জামিন শুনানি না করায়, পরে বিকালে বাকি তিন আসামির জন্যও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত সব আসামির উপস্থিতিতে মঙ্গলবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
গোলাম মোস্তফার মামলায় বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য একটি অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।
মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে গত বছরের জুন মাসে মোস্তফা তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখেন তিনি। এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে গেলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছেন, সেখানেই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথা বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। সেখানে মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হতো। তাকে মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।