মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : চিরায়ত ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার ও শীতের আবহে পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ। ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ আর সংস্কৃতির আবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল পিঠা উৎসব।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে প্রায় ৭৫ প্রকারের পিঠা নিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
পিঠা উৎসবে সভাপতিত্ব করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর দিলারা আক্তার খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীমুল হক। কেক কেটে পিঠা উৎসব আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মাছিহাতা গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ভিপি সৈয়দা মাহফুজা আক্তার মিতা।
উৎসবে ভাপা পিঠা, পাক্কন পিঠা, হুলদ পিঠা, নারিকেল পুলি, চিরুনী পিঠা, পাটিসাপটা, দুধ পুলি, খেজুর গুড়ের পিঠাসহ বাহারি স্বাদের ৭৫ ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শন করা হয়। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের মোট ১৮টি স্টলে এসব পিঠা সাজিয়ে রাখা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, পিঠা আমাদের গ্রাম বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের অংশ। এ ধরনের আয়োজন আমাদের শিক্ষার্থীদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ায়। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে সাংস্কৃতিক শহরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর দিলারা আক্তার খান বলেন, আধুনিকতার ভিড়ে আমরা অনেক সময় নিজস্ব ঐতিহ্য ভুলে যাই। পিঠা উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির স্বাদ ও গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করাতে পেরেছে। আর আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া হচ্ছে সাংস্কৃতিক রাজধানী। আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে কলেজে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে থাকি।
পিঠা উৎসবের উদ্বোধক সৈয়দা মাহফুজা আক্তার মিতা বলেন, আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ভুলে গেলে চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চা একটি সুস্থ ও মানবিক প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পিঠা উৎসব তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রতিবছর এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করে থাকে। ক্লাসরুমের বাইরে এমন আনন্দঘন আয়োজন তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৃজনশীলতা বাড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিজ হাতে তৈরি পিঠা প্রদর্শন করে গর্বের সঙ্গে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ধন্যবাদ জানাই কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রতিবছরের মত এ বছর ও এরকম উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করার জন্য।
এদিকে পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের এই পিঠা উৎসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।