মুক্ত গণমাধ্যম: গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

মতামত, 4 May 2026, 3 বার পড়া হয়েছে,

আজ ৩ মে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের দিবসের মূল সুর হলো—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

​একটি সচল গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় গণমাধ্যমকে। গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশন করে না, বরং এটি সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। যেখানে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়, সেখানে গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ হতে বাধ্য। মুক্ত গণমাধ্যম সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই শক্তিশালী করে।

​”যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, সেখানে কোনো স্বাধীন নাগরিকও থাকতে পারে না।”

​একবিংশ শতাব্দীতে গণমাধ্যমের রূপ বদলেছে। এখন আর আমরা শুধু ছাপাখানা বা টেলিভিশনের ওপর নির্ভরশীল নই। অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া তথ্যের প্রবাহকে করেছে দ্রুততর। কিন্তু এই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কিছু গভীর সংকট: তথ্যের প্রাচুর্যের ভিড়ে সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে। বিজ্ঞাপনের বাজারের সংকোচন এবং কর্পোরেট প্রভাবের কারণে অনেক সময় সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়।

​বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে দুর্নীতির অনুসন্ধান—সবখানেই তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল একটি পেশার দাবি নয়, এটি সত্যকে বাঁচিয়ে রাখার দাবি। যখন একজন সাংবাদিক কলম থামিয়ে দেন, তখন সমাজ অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

​মুক্ত গণমাধ্যম কেবল সাংবাদিকদের বিষয় নয়, এটি সাধারণ জনগণেরও অধিকার। নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো: সংবাদ যাচাই-বাছাই করার মানসিকতা তৈরি করা। স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে জনমত গঠন করা। তথ্যের অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

​বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অঙ্গীকার হোক—ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতার পথ প্রশস্ত করা। রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন হবে, রাষ্ট্র হিসেবে আমরা তত বেশি শক্তিশালী হবো।

এইচ, এম জাকারিয়া জাকির, নির্বাহী সম্পাদক জনতার খবর