গাছে বক আর পানকৌড়ির বাসা, মনে হয় সাদা-কালো ফুল

সারাদেশ, 15 August 2021, 470 বার পড়া হয়েছে,

দিনাজপুর প্রতিনিধি : গাছগুলোর দিকে তাকালে মাঝে মাঝে মনে হয় সাদা-কালো ফুল ফুটেছে। তবে ভালো করে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় ফুল নয় গাছে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার সাদা বক আর কলো পানকৌড়ি। পাখির উড়ে বেড়ানো, মা পাখি বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে আর বাবা পাখি সারাদিন ধরে পাহারা দিচ্ছে এমন দৃশ্য প্রতিদিনের। পাখির বাচ্চার কিচির-মিচিরে মুখর পুরো এলাকা।

পাখিদের এই অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় দিনাজপুরের বালুবাড়ী শহীদ মিনার মোড়ের বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর আশপাশের বাড়ির গাছগুলোতে। নিরাপদ প্রজনন এলাকা হিসেবে এ এলাকার গাছপালাগুলোকে বেছে নিয়েছে সাদা বক আর পানকৌড়িরা।

ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে ৮নং ওয়ার্ডের মানুষের। সকাল না হতেই মা পাখিরা উড়াল দেয় বাচ্চার খাবার সংগ্রহ করতে। যতক্ষণ মা পাখি ফিরে না আসে ততক্ষণ বাচ্চাদের পাহারা দেয় বাবা পাখিরা। পাখিগুলোকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই ভালোবাসে এ এলাকার মানুষ। সড়কের পাশে হওয়ায় আশপাশের এলাকা থেকেও পাখি দেখতে আসে পাখিপ্রেমীরা। তবে পাখির কলকাকলি উপভোগ করতে হলে আসতে হবে ভোর ৬টার আগে বা সন্ধ্যা ৬টার পরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বালুবাড়ি এলাকার কাঁঠাল, আম, নিম, মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে হাজার হাজার সাদা বক ও কালো পানকৌড়ি। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এ এলাকায় আসতে শুরু করে এসব পাখি। সাধারণত প্রজনন শেষে বাচ্চাগুলো বড় হওয়ার পর ভাদ্র মাসে চলে যায় তারা

স্থানীয়রা জানান, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পূর্ণভবা, আত্রাই, গাবুরা নদীসহ খাল-বিল আর ফসলের মাঠ থেকে নানা জাতের মাছ, পোকামাকড় ও শামুক-ঝিনুক খেয়ে জীবন বাঁচে পাখিগুলোর। কেউ তাদের বিরক্ত করে না। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে বাসা বেঁধে প্রজনন থেকে শুরু করে ডিম দেয়া, বাচ্চা ফুটানোসহ সব কিছু এখানেই করে পাখিগুলো।

স্থানীয়রা বলেন, সারাক্ষণই পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখর থাকে পরিবেশ। মা পাখিরা খাবার সংগ্রহ করে এনে মুখে তুলে দেয় বাচ্চা পাখির। সারাদিনই চলে পাখিদের এই কর্মযজ্ঞ। তবে পুরুষ পাখিরা প্রজনন আর পাহারা দেয়া ছাড়া আর কোন কাজ করে না। সন্ধ্যায় মা পাখিরা যখন ঘরে ফেরে তখন হাজার হাজার পাখির ডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

স্থানীয় মো. সাকিরের বাড়ির গাছেও বাসা বেঁধেছে সাদা বক আর কালো পানকৌড়ি। তিনি বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য বর্তমান সময়ে দেখতে পাওয়া খুবই কঠিন। সবসময় পাখিগুলোর দিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করি যেন কেউ তাদের অসুবিধা না করে। সকাল আর সন্ধ্যায় হাজারো পাখির কলকাকলি অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। প্রতিবেশীরাও পাখিগুলোকে ভালোবাসে।

৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য মো. ফয়সল হাবিব সুমন বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গাছে গাছে সাদা বক ও কালো পানকৌড়ি বাসা বেঁধেছে। পাখিগুলোকে যেন কেউ মারতে বা বিরক্ত করতে না পারে সেজন্য সবাই সচেতন।

তিনি আরও বলেন, এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পাখিগুলো কিছুটা খাবারের সঙ্কটে পড়েছে। বক এবং পানকৌড়ির প্রধান খাবার মাছ। কিন্তু জমিতে পানি না থাকায় মাছসহ অন্যান্য পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারিভাবে পাখিগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হতো।