নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শব্দের দীপ্তিতে, কবিতার মুগ্ধতায়, সৃষ্টির উৎসবে, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চাকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম কবি ও কবিতা বিষয়ক সংগঠন ‘কবির কলম’-এর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শহরের কাউতলী এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গুণীজন সংবর্ধনা, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও প্রাণবন্ত সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবে রূপ নেয়।
সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট ছড়াকার হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুল মতিন শিপন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি আদিত্য কামাল।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সংস্কৃতিজন ও কবি আব্দুল মান্নান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন: অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর – সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া – কবি, ফেরদৌস রহমান – কবি ও গবেষক, শামীম আহমেদ – আহ্বায়ক, তরী বাংলাদেশ, নিহার রঞ্জন সরকার – সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাংবাদিক আফজালুর রহমান রিপন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ‘কবির কলম’ নতুন ও প্রবীণ সাহিত্যসাধকদের এক সুতোয় বেঁধে সৃজনশীল বিকাশ ও সাংস্কৃতিক বিকাশে যে নিরলস অবদান রাখছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল গুণীজন সংবর্ধনা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য জেলার বরেণ্য ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধিত অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে কবি ও সাহিত্যিকরা নিজেদের রচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও মুক্তচিন্তামূলক অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন গভীর রাত পর্যন্ত জেলার সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও তরুণ লেখকদের এক মেলবন্ধনে পরিণত হয়। আয়োজকরা প্রতিশ্রুতি দেন, আগামীতে নতুন লেখক তৈরি ও সাহিত্যচর্চার পরিধি আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত করতে ‘কবির কলম’ কাজ করে যাবে।