নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্ষতিকর জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং হাঁটার সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলার অনন্য বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ফাহিম মুনতাসির (২৫)। টানা ১৩ দিনে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছেছেন টাঙ্গাইলে।
ফাহিম মুনতাসির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি এবং একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ এই পদযাত্রার মাধ্যমে তিনি সর্বসাধারণের মধ্যে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চান।
গত ১০ জুলাই কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট (টেকনাফ) থেকে ফাহিমের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু হয়। পথিমধ্যে তিনি অতিক্রম করেন: চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের উখিয়া, চকরিয়া, কেরানীহাট, পতেঙ্গা ও সীতাকুণ্ড। সমতল ও রাজধানী পথ ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা ও সাভার (জাহাঙ্গীরনগর)। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মির্জাপুর হয়ে গত ২২ জুলাই (বুধবার) বিকেলে তিনি টাঙ্গাইল শহরে পৌঁছান।
টাঙ্গাইলে রাত যাপনের পর ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে তিনি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে পুনরায় হাঁটা শুরু করেন।
ফাহিম জানান, আধুনিক জীবনে মানুষ অতিরিক্ত যানবাহননির্ভর হয়ে পড়েছে, যার ফলে শরীরচর্চা ও হাঁটার অভ্যাস দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ফাহিমের মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো: স্বাস্থ্য সচেতনতা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।পরিবেশ রক্ষা: যানবাহনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া কমানো, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণ করা। প্রকৃতি সচেতনতা: সাপের আবাসস্থল ধ্বংসের ক্ষতিকর দিক ও এর পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া।
যাত্রাপথে বিভিন্ন জনবহুল স্থানে থেমে তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে এসব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক আলোচনা করছেন।
২০ দিনের মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর প্রাথমিক লক্ষ্য থাকলেও ফাহিম জানান, পথিমধ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর কারণে আরও দুই-একদিন সময় বেশি লাগতে পারে। তবে এতে তার উৎসাহে ভাটা পড়েনি। টেকনাফ-তেঁতুলিয়া শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলা হেঁটে ভ্রমণ করার বড় পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
ফাহিমের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, ”তরুণ প্রজন্মের এমন ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সাধারণ মানুষের মাঝে দারুণ সচেতনতা তৈরি করবে।
