বাবা, ভরসা ও ছায়ার নাম। সন্তানের কাছে বাবা পরম নির্ভরতার প্রতীক। বাবার আদর, শাসন আর কঠোরতা সবই সন্তানের মঙ্গলের জন্য। আর এভাবেই বাবার আদরে, শাসনে বেড়ে উঠা সন্তানের ভীত মজবুত হয়। সন্তান জীবনে সফলতা পাক, একজন ভাল মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক এমন চাওয়াই পৃথিবীর প্রতিটি বাবার।
বাবা মানেই বটবৃক্ষের ছায়া। সেই ছায়ায়, মায়ায় সন্তানের একটু একটু করে বেড়ে উঠা। সন্তানের প্রথম স্পর্শ আবেগী করে বাবাকে। সেই উপলব্ধির যেন কোন সীমারেখা নেই। সন্তানের চলার পথকে মসৃন করতে একজন বাবা তার সবটুকুই উজার করে দেন। তাইতো কোন কোন বাবা নিজের ভেতর মাতৃরূপকেও ধারণ করেন।
খুব বেশী মনে পড়ছে বাবাকে। কাওকে শেয়ার করা যায় না। কাওকে কিছু বলা যায় না। গভীর রাত হলে চোখ দিয়ে এক ফোটা দুই ফোটা করে পানি পড়তে থাকে। আমি কাদিনা, কাদতে আর ইচ্ছে করেনা কিন্তু চোখ থেকে পানি পড়া থামেনি। আমি থামাতে পাড়িনি। কেও থামাতে পাড়ে কিনা আমার ধারনা নেই।
মনে পড়ে বাবার সাথে এক সাথে কতটি বছর, মনে পড়ে বাবার কত স্মৃতি কত কথা, মনে পড়ে বাবার সাথে কত মান-অভিমানে কথা পেছনে করে স্কুলে যাবার কথা, মনে পড়ে অনেক না বলা কথা। শুধু মনেই পড়ে, কিছুই করার নেই।
বাবাকে একটি বার ডাকতে খুব ইচ্ছে করে। খুব জোড়ে জোড়ে ডাকতে ইচ্ছে করে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে কেন এমন হয়? তাহলে কি আমার মত সবার-ই হয়? আমি যেমনটি করি।
মাঝে মাঝে আমি ঘুম থেকে জেগে পানি পান করি। আমার গলাটা শুকিয়ে যায়। আমি স্বপ্নে বাবাকে দেখি। ঘুম ভাংলে বাবা চলে যায়। আমি কষ্ট পাই। আমার বুকটা ধরফড় করে। মাঝ রাত। ঘড়ে কেও নেই। আমি একা। আমার ভয় হয়। জানি কিছু করার নেই। এটাই বাস্তবতা। মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়!
আজ আমার বাবার ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী, ২০১৯ সালের ঠিক এমন একটি দিনে রাতে ১টার দিকে বাবাকে হারাতে হয়েছে, আমাদের বাড়িতেই আমাদের ছেড়ে বাবা চলে যান চিরতরে, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম, সেদিনেই বুঝেছি বাবাকে হারানোর শোকটা কতটা কষ্টের। এক দিকে বাবা চলে যাচ্ছে আমার সামনে দিয়ে, অন্য দিকে আমি নিজেও অসুস্থ ছিলাম। আমি বাবার মাথার কাছে দাড়িয়ে নিরব দৃষ্টিতে তার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর নিশ্চিত হয়েছিলাম আমার বাবা আর বেঁচে নেই! খুব কাছ থেকে দেখেছি বাবার চলে যাওয়াটা, আমি পাথর হয়ে গেছিলাম অন্যদিকে আমি নিজে ও অসুস্থ ছিলাম, বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার বাবা আর বেঁচে নেই। বিশ্বাস-ই বা হবে কি করে বাবা আর আমি সেদিন দুপুরের একসাথে খাবার খেয়েছিলা। সেই সময়টা মনে পড়লে দমবন্ধ হয়ে আসে। বাবাকে হারিয়ে আমি পাথর হয়ে গেছিলাম। আজ বাবার সাথে পথ চলার সময় গুলোকে অনুভব করছি, চলার জীবনে বাবার ছায়াতেই বড় হয়েছি, বাবার ভালোবাসা, বাবার স্নেহ, বাবার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে। আজ বাবাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিলো, বাবার সাথে আমার অনেক কথা বলার ছিলো, আমি বলতে পারিনি তাই মনের লুকানো কথাগুলো আজও কারো সাথে ভাগাবাগি করতে পারিনি। যাদের বাবা আছে তারা জানেনা বাবার ছায়াটা কতটা তার সন্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাবাহীন পৃথিবীটা বেশ অদ্ভুত! যাদের বাবা নেই তারা কেবল জানেন বাবার অনুপস্থিতিটা কেমন। একটা সময় বাবার বুদ্ধিছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যেতো না, আর আজ বাবাকে ছাড়া চলতে হচ্ছে প্রতিটা মুহূর্ত। বুদ্ধিহীন অবস্থায় চলতে হচ্ছে এই শহরতলীতে। কিন্তু বাবার সেই স্মৃতি, বাবার সেই উপদেশমূলক কথাগুলো আজও আমার অন্তরকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়! বেশ কিছু আশা,স্বপ্ন ,কাজ অপূর্ণ থেকে গেল আমার, সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া/আশির্বাদ করবেন।