শাহাদাত হোসেন সোহেল,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রগতিশীল ও বৃহৎ সামাজিক সংগঠন “সুহৃদের” উদ্যোগে বাৎসরিক আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে নন্দীত তিতাসের বিস্তর জলসীমা ও মেঘনার বুক চিড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে এক বর্ণাঢ্য নৌকা ভ্রমন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট (শনিবার) সুহৃদের সকল সদস্যদের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য নৌকা ভ্রমনটি অনুষ্ঠিত হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার কে কেন্দ্র করে সুহৃদ সদস্যরা সেদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বাজার নৌকা ঘাট থেকে সুহৃদের সদস্য, কিছু সংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুনী এক ঝাঁক সাংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে সকাল ৮ ঘটিকার সময় সুসজ্জিত একটি বিশাল আকারের নৌকা যোগে আশুগঞ্জের সোনারামপুরের সোনারচর হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা হয়। নৌকা ছাড়ার আগে সুহৃদ বন্ধুদের সাথে একের সাথে অপরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর নৌকাটি আনন্দবাজার ঘাট ছাড়লে সকলের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের মাঝে বিতরণ করা হয় সকালের নাস্তা। অতঃপর তিতাসের বিস্তর জলসীমার মধ্যে ভেসে চলা নৌকার বিশাল ছাদে অবস্থান নেওয়া সকল সুহৃদ বন্ধুদের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সুহৃদের সভাপতি প্রফেসর বিভূতি ভূষণ দেবনাথ,সংগঠনটি সাধারণ সম্পাদক বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রধান এ এফ এম ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান, বিশিষ্ট কবি সাবেক অতিরিক্ত সচিব শাহ মোঃ সানাউক হক,
সংগঠনটির সিনিয়র সহ- সভাপতি সৈয়দ মোঃ আসলাম, সহ- সভাপতি এডভোকেট কবি হুমায়ুন কবীর ভূইয়া, সহ- সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম,নৌভ্রমন কমিটির সমন্বয়ক ও আহবায়ক মোঃ ওয়াকার, দৈনিক জন ভাষা পত্রিকার সম্পাদক ও এ এম টিভি বাংলার চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আব্দুল মালেক, মনোয়ারা হাকিম মেটার্নিটি হসপিটালের পরিচালক ও সংগঠনের সিনিয়র সাধারন সম্পাদক এডঃ এম এ শাহেদ, অর্থ সম্পাদক মোঃ আরফান,লিটন পাল, দপ্তর সম্পাদক ফারুক আহমেদ ভূইয়া, এডঃ আরিফ খান,কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ আবুল খায়ের সহ সবাই সবার উদ্যেশ্যে নিজেদের অনুভূতি ও বক্তব্য পেশ করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুল হক রিপনের সঞ্চালনায় নৌকায় শুরু হয় গুনী সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীতশিল্পীরা ছাড়াও সুহৃদ বন্ধুরা সংগীত পরিবেশন করে সবাইকে আনন্দের যোগান দেন। অতঃপর তিতাসের বুক মারিয়ে মেঘনার অববাহিকার বিস্তর জলসীমার সাথে মিলন ঘটিয়ে গানে,গল্পে, আর আড্ডায় সোনারামপুরের চর হয়ে নৌকা গিয়ে থামে কিশোরগঞ্জের ভৈরভ ব্রীজের নিচে পশ্চিম পার্শ্বে নির্ধারিত গন্তব্যে। অতঃপর সবাই মিলে সেখানে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আবার বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে নৌকা ভাসালে নৌকায় শুরু হয় দারুণ কিছু পুরস্কারে সমৃদ্ধ দর্শকদের জন্য লটারি নির্ভর চমৎকার কিছু পুরস্কারে ভরা রেফেল ড্র।
রেফেল ড্র শেষে আবার পুনরায় গান আর আড্ডায় আড্ডায় শুরু হয় ঘড়ি ধরে বাড়ি ফেরার ক্ষন। এইভাবেই কাটে সারাদিনব্যাপী সামাজিক সংগঠন সুহৃদের সকল সদস্যদের অংশগ্রহনে ২০২৬ এর নৌভ্রমন। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সুহৃদের এই সুন্দর নৌ ভ্রমণকে সবাই মিলে সফল করায় সবার উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এবং ভবিষ্যতে মানুষ ও মানবতার জন্য ভালো ভালো কর্মসূচি নিয়ে সবাইকে নিয়ে পাশে থাকা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।