ইতালিতে প্রেম করায় বাংলাদেশি তরুণীকে অন্ধকার ঘরে বন্দি: ব্লিচ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রবাসী খবর, 4 April 2026, 2 বার পড়া হয়েছে,
প্রবাসী প্রতিবেদক : খ্রিস্টান ছেলের সাথে প্রেম করা গুনাহ -এই অভিযোগে ২৩ বছরের তরুণীকে শিকলবন্দি করে রাখে পরিবার; বর্তমানে সরকারি আশ্রয়ে হিজাব ত্যাগ করে পশ্চিমা জীবন বেছে নিয়েছেন ওই নারী
৩ এপ্রিল ইতালির ফ্রিউলি ভেনেজিয়া জুলিয়া অঞ্চলে এক বাংলাদেশি পরিবারে চরম মধ্যযুগীয় বর্বরতার খবর সামনে এসেছে। এক ইতালীয় খ্রিস্টান যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলায় নিজ পরিবারের হাতেই দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছে ২৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণীকে। এই ঘটনাটি বর্তমানে ইতালির স্থানীয় রাজনীতি এবং প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ভিনদেশি ও ভিন্নধর্মী ছেলের সাথে সম্পর্ক করায় তার পরিবার এটিকে ধর্মীয় ‘গুনাহ’ হিসেবে গণ্য করে। তাকে দীর্ঘ সময় একটি অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হয় এবং বাইরের জগতের সাথে তার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
বন্দি দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ না দেখে চরম হতাশায় ওই তরুণী বাথরুমে রাখা ব্লিচ (পরিষ্কারক তরল) পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি নতুন জীবন ফিরে পান।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই তরুণী আর পরিবারের কাছে ফিরে যাননি। বর্তমানে তিনি সরকারি বিশেষ আশ্রয়ে (Protected Shelter) রয়েছেন। তিনি এখন সম্পূর্ণ পশ্চিমা জীবনধারা বেছে নিয়েছেন এবং নিজের ইচ্ছায় হিজাব ত্যাগ করেছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য আন্না মারিয়া চিসিন্টকে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি তার অবরুদ্ধ জীবনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ইতালিতে প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে থাকা গোঁড়া নিয়মকানুন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মোনফালকোন এলাকার বিতর্কিত মসজিদগুলো বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন, কারণ তার মতে সেখানে অসহিষ্ণুতা শেখানো হয়।