পলিথিনের বিকল্প অন্বেষণ, উৎপাদন ও বাজারজাত করণের পন্থা নির্ধারণে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে তরী বাংলাদেশ এর বৈঠক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 26 July 2026, 1 বার পড়া হয়েছে,

নিজস্ব প্রতিবেদক : পলিথিনের বিকল্প অন্বেষণ, উৎপাদন ও বাজারজাত করণের পন্থা নির্ধারণে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে তরী বাংলাদেশ এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৪ জুলাই শুক্রবার রাত ৮ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের নিউ মার্কেটে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ব্যবসায়ী সমন্বয় কমিটির সাথে পলিথিনের বিকল্প ব্যাগ ব্যবহার ও এর সহজলভ্য করে তোলা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা পলিথিন ব্যবহারের কুফল এবং পলিথিন কিভাবে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করছে বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন বাজার থেকে কেনা পণ্য পরিবহনে যদি অপচনশীল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশ বান্ধব বিকল্প ব্যাগ ব্যবহার শুরু করা না যায় তাহলে নদী-জলাশয়, কৃষি জমি তথা পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা কখনোই সম্ভব হবে না। নগর জীবনে আমরা যে জলাবদ্ধতায় ভোগছি সেটারও অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো পলিথিন। তাই যেকোনো মূল্যে আমাদের পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ব্যবসায়ী সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ও নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব হাজী আবুল কালাম বলেন – বাজার থেকে পণ্য পরিবহনে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে এবং এর বিকল্প ব্যবহারে তরী বাংলাদেশ এর গৃহীত পদক্ষেপের সাথে আমরা একমত পোষণ করছি। পলিথিনের বিকল্প উৎপাদন, বিপনন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে আমরা ব্যবসায়ীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। কেননা পলিথিন নামক এই মহামারি কারো একার পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়।
শহরের আনন্দ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. জালাল উদ্দীন বলেন – ভোক্তা পর্যায়ে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না করা গেলে আমাদের নদী, কৃষি জমি সবই বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাজারে দ্রুত পলিথিনের বিকল্পের যোগান বাড়াতে হবে এবং সহজলভ্য করতে হবে যেনো ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই সহজেই সেটা হাতের নাগালে পায়।
এফ এ টাওয়ার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া বলেন- যেকোনো মূল্যে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সহ সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ উৎপাদন ও বিপনন বাড়িয়ে সহজ লভ্য করে তুলতে হবে।
সভায় তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন বাজারে পলিথিন চীরতরে বন্ধ না করতে পারলে আমাদের পরিবেশ বাঁচবে না। তরী বাংলাদেশ চেষ্টা করছে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষজনকে যুক্ত করে কীভাবে পলিথিন মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা দেশ গড়া যায় তার কার্যকর উপায় বের করতে এবং পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত দ্রব্য, কাপড়, কাগজসহ পরিবেশ বান্ধব উপাদানের মাধ্যমে তৈরি ব্যাগ সহজলভ্য করে তুলতে হবে।
ব্যবসায়ী ও জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম আবুল বাশার বলেন – ২৫ বছর আগে বিএনপির উদ্যোগে দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বন্ধ হয়েছিলো। এবারও এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার। সকলের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পলিথিন মুক্ত করে সারা দেশে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য সোহেল রানা ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.হৃদয় কামাল, সমবায় মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটির মো. আকরাম হোসেন ও মহিদুল ইসলাম অপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির হুমায়ুন কবির।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সদস্য রিফাত হাসান ভূইয়া, ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাছির সহ ব্যবসায়ী বৃন্দ।