জীবন যুদ্ধে অপরাজিত সৈনিক আজিজ মিয়া

জনতার কন্ঠ, 30 December 2021, 356 বার পড়া হয়েছে,
জীবন সংগ্রামে অপরাজিত সৈনিক এর নাম আজিজ মিয়া। তার একটি পা নেই কিন্তু থেমে থাকেনি এক পা নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবন যুদ্ধকে জয় করে চলেছেন এই আজিজ মিয়া। স্বামী-স্ত্রী সন্তানসহ তারা ৫ জন চাইলে ভিক্ষা করে খেতে পারতেন, কিন্তু আজিজ মিয়া তা না করে হাতে নিয়েছেন রিক্সার হ্যান্ডেল। জীবন যুদ্ধে হার মানার পাত্র আজিজ মিয়া নয়। ছোটবেলায় রোড এক্সিডেন্টে পা হারায় আজিজ মিয়া। তার বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরিতে। আজমিরির গ্রামে বিভিন্ন কাজের চেষ্টা করলেও তেমন কোনো কাজ না মিলায় তিনি ছুটে আসেন হবিগঞ্জের একটি রিক্সা গ্যারেজ, আর সেখানেই তার রিকশা চালানোর হাতেখড়ি হয়েছিল। কিন্তু হবিগঞ্জ শহরে রিকশা চালিয়ে পারছিল না ৫ সদস্যের এই সংসার। কিন্তু থেমে থাকেনি আজিজ মিয়া, পরে খোজ খবর নিয়ে জানতে পারল ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে অথবা ঢাকায় ভালো ইনকাম হয়। তাই সিদ্ধান্ত নিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে আসবে, যেই কথা সেই কাজ, চলে আসলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এসে ভর্তি করলো তার মেয়ে কে ষষ্ঠ শ্রেণীতে আর ছেলে দুটো কে মাদ্রাসায়। আর নিজে তুলে নিল রিক্সার হ্যান্ডেল। পা নেই বলে কি হয়েছে মনের জোর তো আছে, ভিক্ষা কেন করব দুইহাত তো ভালো আছে তা দিয়ে কিছু করে খাব এই চিন্তা থেকে কাজ শুরু করলে ভালোই দিনাতিপাত হচ্ছে বলে জানান আজিজ মিয়া।
আজিজ মিয়ার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে আমার ছোটবেলা ‘মহানবীর শিক্ষা’করনা ভিক্ষা মেহনত করে খাও কথাটি মনে পড়ে গেল, ভিক্ষা করোনা মেহনত করে খাও।
দিনে চার থেকে পাঁচশত টাকা কামাই হয় আজিজ মিয়ার। তা দিয়ে ভালই চলছে তার এবং তার সংসার। আজিজ মিয়া জানান, কোন কোন প্যাসেঞ্জার তাকে খুশি হয় বেশি ভাড়া দেয়।
আসলে আমাদের সমাজে সবাই যদি এরকম আজিজ মিয়ার মত চিন্তা করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করত তাহলে প্রতিবন্ধীরা আর সমাজের বোঝা হয়ে থাকত না এবং আমরা সচেতন মহল ও তাদেরকে কর্মমুখী করার জন্য এগিয়ে আসা দরকার, তাহলেই হবে আমাদের সমাজ ভিক্ষুকমুক্ত। সাবাস আজিজ ভাই বলে আমি তাকে বকশিশ দিয়ে বিদায় নিলাম।
 -(জাকারিয়া জাকির)