দুই শিশুকে হত্যার পর অনুতপ্ত সেই পাষণ্ড মা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 18 March 2022, 160 বার পড়া হয়েছে,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় দুই শিশুকে বিষ প্রয়োগে হত্যায় ঘটনায় মা রিমা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম বেগম আরেফিন আহমেদ হ্যাপির আদালতে এই জবানবন্দি দেন।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় শিশুদের মা রিমা বেগমকে অনেকটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সে অনুতপ্ত। এই জানায় তার পরকিয়া প্রেমিকের প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড করেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, শিশুদের বাবা ইসমাঈল হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এনিয়েই সে সিলেটে ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে সে শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় শুধু স্লিপ বিতরণ করেন। প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে করেন রিমাকে বিয়ে করেন।তাদের সংসারে ৩সন্তান রয়েছে। সংসারের অসচ্ছলতার কারণে চাতাল কলে কাজ শুরু করেন রিমা। সেখানে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সর্দার সফিউল্লাহ’র সাথে। সফিউল্লাহ শর্ত দেয় রিমাকে দুই সন্তান সরিয়ে ফেললে বিয়ে করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফিউল্লাহ ঘটনার দিন বিকেলে রিমাকে ৫পিছ মিষ্টি দিয়ে আসে এবং বলেন এই মিষ্টি দুই শিশুকে খাওয়ানোর পর আর কিছু করতে হবে না। রিমা দুই শিশুকে মিষ্টি খাওয়ায়৷ এদিন রিমার সাথে সফিউল্লাহ’র প্রায় ১৫ বার মোবাইলে কথা হয়৷ শিশু দুইজনের শরীরে জ্বর ছিলো। তাই রিমা নাপা খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা সাজাতে তার শাশুড়ীকে দিয়ে ফার্মেসি থেকে নাপা সিরাপ আনিয়ে দুই শিশুকে এক চামচ করে খাওয়ায়। এরপর শিশুদেরকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসার পর মারা যায়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে নাপা সিরাপ সেবন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই ঘটনায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তদন্তকালে পরিদর্শনে যায় নিহত দুই শিশুর বাড়িতে। এসময় দুই শিশুর মা রিমা বেগম তদন্ত কমিটির কাছে বক্তব্যে বলেছিলেন, নাপা সিরাপ একচামচ খাওয়ার ১০/১৫ মিনিট পর শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মায়ের এমন বক্তব্যে সেই তদন্ত কমিটির প্রধান ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আকিব হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা বলছে ওষুধ খাওয়ানোর পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওষুধটিতে কী এমন উপাদান ছিল- যেটি খাওয়ার ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে রিঅ্যাকশন করল- এটি আসলে রহস্যজনক।

এর আগে গত ১০ মার্চ আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে ইয়াছিন খান (৭) ও মোরসালিন খান (৫) ‘নাপা সিরাপ খেয়ে’ মারা যায় বলে অভিযোগ উঠে।