অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বাবা খোরশেদ আলম (৬০) কে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে বোনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন সহোদর ভাই। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ভাই রাকিব হোসেনের মামলায় বোন রাবেয়া বেগমকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন কসবা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলেই নিহতের মেয়ে অভিযুক্ত রাবেয়া ও স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। নিহত খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিব হোসেনের করা মামলায় শুধু বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় মা নূরজাহান বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলা সূত্র জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়া উত্তেজিত হয়ে তার একমাত্র মেয়ে দুই সন্তানের জননী রাবেয়া বেগমকে মারধর করতে থাকে। মেয়ে রাবেয়াও উত্তেজিত হয়ে একটি লাঠি দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করে। তখন তার পিতা তাকে আবারও মারার জন্য উত্যক্ত হয়ে লাঠি আনলে ওই লাঠিতে লেগে তার হাত কেটে যায়। পরে লাঠি ফেলে দিয়ে চলে যায় বাবা।
পরে বাড়ির লোকজন তার হাতের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে বেশ কিছুক্ষণ কারো সাথে কথা না বলে অভিমান করে চুপচাপ বসে থাকে। মেয়ের আঘাতের অপমান সইতে না পেরে দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে গোপনে বেরিয়ে গিয়ে এক নির্জন জায়গায় বসে অভিমানে কেরির বড়ি নামে বিষ পান করে ফেলে বাবা খোরশেদ আলম । টের পেয়ে বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তার পেটের বিষক্রিয়া ওয়াশ করার পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। কুমিল্লা নেওয়ার পথে রাস্তায় তার বাবার মৃত্যু হয়। পরে রাতে এসে ছেলে রাকিব হোসেন তার বোন রাবেয়া আক্তারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রাবেয়া আক্তারকে আদালতে প্রেরণ করেন পুলিশ।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে মামলার বাদী রাকিব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে সে কথা বলতে রাজি হয়নি।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, কায়েমপুর গ্রামে খোরশেদ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে রাকিব হোসেন মামলা করেন তার মেয়ের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় শনিবার দুপুরে নিহতের মেয়ে রাবেয়া আক্তারকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।