মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামে বালু সন্ত্রাসীদের গুলিতে ১০ জন গ্রামবাসী আহত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে আবারও চরলাপাং গ্রামে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দা নাজির মিয়া (৬০) নবীনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহালের ইজারাদার সাহেবনগর (নাছিরাবাদ) গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন পায়েল (৪২)কে। তবে এ মামলায় একই গ্রামের রিপন মিয়া (৪২) কে ২ নম্বর ও মাসুম মিয়া (৪৫) কে ৩ নম্বর আসামী করা হলেও বাকি ২৮ জন আসামীর বাড়ি পাশ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নাছিরাবাদ বালু মহালের ইজারাদারের সশস্ত্র লোকজন ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী চরলাপাং এলাকায় ড্রেজার দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটতে যায়। এ সময় গ্রামবাসী বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার স্থানীয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নান নবীনগরের ইউএনও মাহমুদুল হাসান এবং ওসি রফিকুল ইসলামসহ দলীয় নেতৃত্ববৃন্ধ চরলাপাং গ্রাম পরিদর্শন করেন।
সেখানে এক সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় স্হানীয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নান, তিনি বালু সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফারের দাবি জানান। তবে জনসভা শেষে, কয়েক ঘণ্টা না পেরুতেই মঙ্গলবার রাতেই চরলাপাং গ্রামে আবারও সশস্ত্র মহড়া দেয় বালু মহালের সন্ত্রাসীরা। এসময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান চলমান আছে। ইতোমধ্যে ৩১ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে এবং দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতার করা হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।