শবেবরাতে কি বিশেষ নামাজ পড়তে হবে?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 18 March 2022, 293 বার পড়া হয়েছে,

শবেবরাত উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ আছে কি না-এ প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। একধরনের চটি বই পুস্তিকায় বিভিন্ন নিয়মের কথা লেখাও থাকে। বিশেষ বিশেষ সূরা দিয়ে নামাজ পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামাজ বিশেষ সূরা দ্বারা আদায় করা ইত্যাদি।

বাস্তবতা হলো শবেবরাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সব সময় যেভাবে নামাজ পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে। তদ্রুপ অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই।  কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয় আদায় করবে।

তবে নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়। বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজের যে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সূরা এতবার পড়তে হবে-এগুলো ঠিক নয়।

হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা।

বলাবাহুল্য যে, যে কোনো বই-পুস্তিকায় কোনো কিছু লিখিত থাকলেই তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিজ্ঞ আলিমদের কাছ থেকে জেনে আমল করা উচিত। শবেবরাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকী করণীয়। ফরজ নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে।

এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিস শরিফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না।  (ইকতিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ পৃ. ২১৯)

তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায় তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।