নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা ও নৃশংসতার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 20 May 2026, 54 বার পড়া হয়েছে,

কোহিনূর আক্তার প্রিয়া : “নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা এবং নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৩:৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভানেত্রী শোভা পালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মহামারী চলছে। নিজের ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন কিংবা চলার পথ—কোথাও কোনো বয়সের নারী নিরাপদ নন। তিন-চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে কিশোরী, তরুণী ও গৃহবধূরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হচ্ছেন। শুধু কন্যাশিশু বা নারী নয়, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ওপর আশঙ্কাজনক হারে নির্যাতন বাড়ছে। যার খুব কম অংশই প্রকাশ্যে আসে।

এই ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ‘আশ্চর্যজনকভাবে নির্লিপ্ত’ বলে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার না হওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না। বক্তারা অতীতে এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সফল আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন বিরামহীন গণআন্দোলনের মুখে সরকার যেভাবে কঠোর হস্তে এসিড সন্ত্রাস দমন করেছিল, বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও ঠিক তেমনই তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

​সমাবেশ থেকে অপরাধ দমনে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সুনির্দিষ্ট কিছু আহ্বান ও দাবি জানানো হয়।

প্রতিটি অপরাধী বা মববাজ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) কোনো না কোনো পরিবারেই বেড়ে ওঠে। তাই পরিবার থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সচেতনতা শুরু করতে হবে।

রাষ্ট্র ও সমাজের প্রভাবশালী মহল যেন কোনো অপরাধীকে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়। অপরাধীকে কেবলই ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মেরুদণ্ড সোজা করে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং অপরাধীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

​জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা সিকদার দীনার পরিচালনায় ও অ্যাডভোকেট অঞ্জনা আশীষা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ​সাথী চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা কোহিনূর আক্তার প্রিয়া। ​জহিরুল ইসলাম স্বপন সভাপতি, উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদ। কবি ইউনুস সরকার। ওমর ফারুক, ছাত্রনেতা। ​অ্যাডভোকেট মিলি বেগম সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতি।

​সমাপনী বক্তব্যে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।