ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানালেন মিন্টু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 11 November 2022, 82 বার পড়া হয়েছে,

নিউজ ডেস্ক : আবু কাউসার মিন্টু দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরেছেন ২০১৩ সালে। প্রবাস থেকে ফেরার দীর্ঘ ৯ বছরের দেশটির প্রতি ভালবাসা কমেনি তার। তাই এবার আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে আমের বাগানের জায়গা বিক্রয় করে এবং স্ত্রীর জমানো টাকা দিয়ে নিজ বাড়ি থেকে গ্রামের সড়কের পাশ দিয়ে শ্বশুর বাড়ি পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার লম্বা দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়েছেন৷ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার হাজী আবুল হাশেমের ছেলে আবু কাউসার মিন্টু। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবিকার তাগিদে যান৷ এরই মাঝে ২০০২  সালে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়৷ এসময় মাঠে বসে কোরিয়ার ফুটবল খেলা উপভোগ করেন মিন্টু। তখন থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের প্রেমে পড়ে যান তিনি। তখন থেকেই ফুটবলের বিভিন্ন আসরে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিলে তিনি সমর্থন করে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে দেশে ছুটিতে এসে পাশের ইউনিয়ন তেজখালীর পশ্চিম পাড়ার সাবিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর স্বামীর পাশাপাশি সাবিনাও দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল ভক্ত হয়ে যান। ২০১৩ সালে প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরেন আবু কাউসার মিন্টু। দেশে ফেরার পর গাজীপুরে ছোট একটি ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রবাস থেকে ফেরার পরও দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালবাসা কমেনি তার। ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে রাজধানী বিমান বন্দর এলাকায় ওভার ব্রিজে এক হাজার ফুট লম্বার দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের পতাকা ঝুলিয়েছিলেন তিনি। এতে আত্মতুষ্টি পায়নি প্রবাস ফেরত মিন্টু। এরপর মিন্টু ও তার স্ত্রী সাবিনা সিদ্ধান্ত নেন ২০২২ বিশ্বকাপে দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় পতাকা ঝোলাবেন তারা। মিন্টুর স্ত্রী সাবিনা আলাদা ৮টি মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো শুরু করেন। দুজনের সংসারে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দল যেন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে হয়ে উঠে। তারা প্রতিদিন ভাত খান দক্ষিন কোরিয়ার পতাকা যুক্ত প্লেটে, পানি পান করেন দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা যুক্ত মগে এবং টাকা জমাচ্ছিলেন যে মাটি ব্যাংকে তাও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা যুক্ত।

২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ সন্নিকটে আসায় দক্ষিন কোরিয়ার পতাকা বানানোর উদ্যোগ নেন। পতাকাটি হবে ৪ কিলোমিটার লম্বার, মিন্টুর বাড়ি থেকে তার শ্বশুর বাড়ি তেজখালীর পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত।  এই পতাকা কাপড় এবং প্রিন্টিং সহ বানাতে খরচ পড়বে ৫ লাখ টাকা। মিন্টুর স্ত্রীর ৮টি মাটির ব্যাংক ভেঙে পাওয়া যায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু এই টাকাতে পতাকাটি বানানো সম্ভব না হওয়ায় নিজের পৈতৃক ভাবে পাওয়া একটি আমের বাগান বিক্রয় করে দিয়ে এর থেকে আরও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। ফুটবল বিশ্বকাপ আর মাত্র কিছুদিন বাকী থাকায় পতাকাটি মিন্টু নিজ বাড়ি থেকে তার শ্বশুর বাড়ি পর্যন্ত ঝুলিয়েছেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো.সোহাগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন কোরিয়াতে থাকায় আবু কাউসার মিন্টু দেশটিকে ভালবাসে। কোরিয়ার খেলা হলেই তিনি বাড়িতে পতাকা ঝুলাতেন। তিনি কোন লাভের জন্য এই পতাকাটি তৈরি করেননি। তিনি চান কোরিয়ার মানুষ বাংলাদেশটাকে আরও জানুক-চিনুক।বাংলাদেশের সাথে কোরিয়া সম্পর্ক আরও সুসংগঠিত হোক, তিনি চান।

ফরিদ মিয়া নামের আরেকজন বলেন, মিন্টু ভাই দক্ষিন কোরিয়া থাকার সময় থেকে দেশটির ফুটবল দলের ভক্ত। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতাকা তিনি তৈরি করবেন। আমরাও বলেছি তৈরি করেন। সারাদেশ আপনার এই পতাকার কথা জানবে।’
আবু কাউসারের স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর থেকেই আমার স্বামী দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে অনেক কথা জানিয়েছেন। তারপর থেকে আমিও দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলকে সমর্থন করি। আমাকেও সে দেশে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কোরিয়ার প্রতি ভালবাসা থেকে মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা ও আম বাগান বিক্রয়ের টাকা দিয়ে এই পতাকা বানিয়ে ঝুলিয়েছে।

আবু কাউসার মিন্টু বলেন, প্রথম যখন বিশ্বকাপ দেখেছিলাম, তখন দক্ষিণ কোরিয়া দলের আঞ্জুয়ান নামের এক খেলোয়ার দূর্দান্ত খেলেছিল। এরপর থেকেই মূলত আমি দলটির ভক্ত হয়ে যাই। প্রবাস থেকে ফিরলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আমার ভালবাসা কমেনি। গত বিশ্বকাপেও আমি রাজধানীর বিমান বন্দর এলাকায় ওভার ব্রিজে একহাজার ফুট দৈর্ঘ্যের দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা ঝুলিয়েছিলাম। কিন্তু এতে আমার মন ভরেনি। আমি চাই আমার এই পতাকার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ বাংলাদেশকে ভাল ভাবে জানুক এবং সম্পর্ক সুদৃঢ় হোক।