বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মুক্তার উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছর আগে চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের রাব্বান মিয়ার মেয়ে শেউলা আক্তারের সঙ্গে কাঠালকান্দি গ্রামের কুটবীপাড়ার মুক্তার মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয়। তাদের প্রেমের ঘটনা দুই পরিবারে জানাজানি হয়। ছেলের পরিবার মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় কিন্তু মেয়ের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। তাই বিয়ের প্রস্তাবেও রাজি হয়নি। পরে এ নিয়ে দুই পরিবারের সংঘর্ষ হয়। এতে মেয়ের পরিবারের লোকজন আহত হলে আদালতে মামলা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মীমাংসা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তার মিয়া অটো নিয়ে চাতলপাড় বাজার থেকে কচুয়া গ্রামের দিকে গেলে রাস্তার সামনে দাড়িয়ে অটো আটক করে। তারপর মেয়ের বড় ভাই শাহালমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল ধারালো ছুরি দিয়ে মুক্তারের হাত-পা ও পেটে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আক্তার হোসেন বলেন, আমার ভাই শেউলা আক্তার নামে একটা মেয়েকে পছন্দ করত। আমরা মেয়ের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাইছি কিন্তু তারা আমাদের প্রস্তাব মেনে নিতে পারেনি। তাই একাধিকবার আমার ভাইকে মেয়ের বড় ভাই মারধর করে। আজ দুপুরে আমার ভাই শেউলাকে নিয়ে অটোরিকশা দিয়ে কচুয়া গেলে সেখানে ওতপেতে থাকা আলমগীরের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
নাসিরনগর থানার ওসি মাকছুদ আহাম্মদ বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
