আদিত্য কামাল : বর্ষার অঝোর ধারায় সিক্ত প্রকৃতি যখন শ্রান্ত, ঠিক তখনই তার ক্লান্তির গ্লানি মুছে দিতে নীল-সাদা শাড়ি পরে হাজির হয় শরৎ। ভাদ্র আর আশ্বিনের এই মেলবন্ধন রূপসী বাংলার ষড়ঋতুর রঙ্গমঞ্চে এক অনবদ্য সৃষ্টি। শরতের আগমন মানেই শুধু পঞ্জিকার পাতায় ঋতু পরিবর্তন নয়; এ যেন প্রকৃতির এক অমলিন রূপান্তর, বিষাদের পর আনন্দের নতুন বার্তা।
শরতের রূপ স্নিগ্ধ ও শান্ত। নদীর কূলে কূলে শুভ্র কাশের মেলা, ধানের ক্ষেতে বাতাসের দোলাচলা, আর ভোরের কচি ঘাসে শিশিরের উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় নির্মলতার কথা। শিউলি তলার মিষ্টি গন্ধ আর সকালের স্নিগ্ধ রোদ গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত আনন্দ। আমাদের সাহিত্যও তাই শরৎকে বাদ দিয়ে পূর্ণতা পায়নি। রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল—সবাই শরতের এই রূপসী ও সুস্মিতা রূপকে বাঁধতে চেয়েছেন কাব্যের ফ্রেমে। তাছাড়া বাঙালি জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আবহও বয়ে আনে এই শরৎ-ই।
তবে ইটের শহর, ব্যস্ত রাজপথ আর বহুতল ভবনের নগরজীবনে শরতের সেই চেনা কাশবনের মেলা কিংবা শিউলি কুড়োনোর সকাল হয়তো মেলা ভার। নগরবাসী হিসেবে আমরা যখন যান্ত্রিকতায় পিষ্ট, তখনও মাথার ওপর হঠাৎ ফুটে ওঠা ওই নীল আকাশ আর তুলোর মতো ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ আমাদের থমকে দাঁড়াতে শেখায়।
শরৎ মূলত আমাদের শেখায় স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে জেগে ওঠার কথা। বর্ষার ঘোলা জল পেরিয়ে যেভাবে নদীগুলো ফিরে পায় স্বচ্ছতা, তেমনি শরতের এই শুভ্রতা আমাদের কোলাহলময় জীবনে বয়ে আনে এক চিলতে প্রশান্তি। যান্ত্রিকতার ভিড়েও শরতের স্নিগ্ধতা আমাদের হৃদয়ে জাগিয়ে রাখুক নতুন প্রেরণা, বয়ে আনুক সর্বজনীন আনন্দের বার্তা।