সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু

সারাদেশ, 29 November 2021, 360 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ রুহুল আমিন : চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত নাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ফাতেমা–তুজ জোহরা (জ্যেতি) ২৮ নভেম্বর (রবিবার) রাত সাড়ে এগারোটায় চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকাস্থ তার পিত্রালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শাহরাস্তি উপজেলায় শিক্ষক পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

উল্লেখ্য, বিগত ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয় ঘটিকায় তিনি প্রাত্যাহিক নিয়মানুযায়ী তার কর্মস্থল শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাবার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর থেকে শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচৌঁ বাস স্ট্যান্ডে নেমে স্কুলে আসার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় দ্রুতবেগে আসা যাত্রীবোঝাই একটি অটো রিকশা তার উপর আছড়ে পড়ে। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও তার সহকর্মীরা তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এসময় হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল বা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী ঐদিনই তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দূর্ঘটনায় তার দুই পা ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসা চলাকালে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন যেহেতু চিকিৎসা দীর্ঘ সময় নিয়ে করতে হবে তাছাড়া গুরুতর আহত শিক্ষক ফাতেমা–তুজ জোহরার দুই পায়ে করা ব্যান্ডেজ একমাস পর খোলা হবে তাই চাইলে তার স্ব-জনরা তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে (ফাতেমা–তুজ জোহরাকে) তার চাঁদপুর শহরের ষোলঘরস্থ পিত্রালয়ে নিয়ে আসেন তার বাবা জহিরুল ইসলাম। কিন্তু ২৮ নভেম্বর রবিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবশেষে ঐদিন রাত ১১:৩০ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়েন।

শিক্ষক ফাতেমা–তুজ জোহরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মী ও কর্মস্থল শাহরাস্তি উপজেলা এলাকার শিক্ষা পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এইদিন কোন কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাদের প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন সূচি সংক্ষিপ্ত করতে দেখা যায়।

২৯ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে দশ ঘটিকায় শিক্ষক ফাতেমা–তুজ জোহরার জানাযা শেষে চাঁদপুর শহরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় মরহুমার সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, শুভার্থী ও শহরের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি শিক্ষক স্বামী, সাড়ে পাঁচ বছরের তারিনা আঞ্জুম নামের একমাত্র শিশু কন্যা ও পিতা-মাতা সহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

শিক্ষক ফাতেমা–তুজ জোহরার স্বামী কবির হোসেন শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।