ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রীর সন্তানকে কোলে নিয়ে শিক্ষকের পাঠদান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 4 October 2021, 424 বার পড়া হয়েছে,
জাকারিয়া জাকির : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ছাত্রীর মেয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করিয়েছেন পঙ্কজ মধু (৪৫) নামের একজন শিক্ষক। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এরপর থেকেই প্রসংশায় ভাসছেন ওই শিক্ষক।

পঙ্কজ মধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাতিয়ারা গ্রামে বসবাস করেন।

ছাত্রীর শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করানোর এই মমতাময়ী কাজটি জন্য প্রশংসা ভাসছেন পঙ্কজ মধু নামের এক স্কুলশিক্ষক। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে দেখা যায়।

এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষক পঙ্কজ মধু বলেন, করোনা মহামারির প্রথম দিকে গোপনে ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্কুলের কেউ জানতো না। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এক ছাত্রীর অনুপস্থিতি দেখতে পাই। বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বিয়ে ও সন্তানের খবর পাই। তারপরও ছাত্রীর পরিবারকে অনুরোধ করি তাকে স্কুলে পাঠানোর।
রোববার (৩ অক্টোবর) ওই ছাত্রী শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে আসে। সন্তান নিয়ে ছাত্রীর ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে দেখে শিশুটিকে আমি কোলে নিই। স্নেহ-মমতা থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাস করিয়েছি। সাবেকুন নাহার সাকিনা নামের ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, স্যার আমাদের নিজের বাবার মতো আদর-স্নেহ করেন। শুধু আমি নই অধিকাংশ শিক্ষার্থীই স্যারকে বাবা ডাকেন। ওই বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বলেন, ‘পঙ্কজ মধু’ স্যারের কোনো তুলনা হয় না। ওনার কারণে স্কুল মাঠে আমরা ভলিবল খেলতে পারছি। চিনাইর ভলিবল দল স্যারের কারণে সারাদেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জুলাই মাসে পঙ্কজ মধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যদিও ২০০০ সালের ৩ জুন থেকে তিনি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। পঙ্কজ মধু গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সন্তান। তিনি দুই সন্তানের জনক।