প্রতারক চক্রের মূলহোতা সজিব’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯

অপরাধ, 27 December 2023, 19 বার পড়া হয়েছে,
মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকুরী দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনে ইচ্ছুক বেকার যুবক যুবতীদের নিকট হতে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে সর্বশান্ত করছে এবং বিদেশে গিয়ে তারা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
গত ২২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখে এরূপ প্রতারণার শিকার ভিকটিম বাদী হয়ে ফরিদপুর
জেলার ভাঙ্গা থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৪৪/৫০১, তারিখ-২২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ, ধারা- ৪০৬/৪২০ পেনাল কোড।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ধৃত আসামী সজিব কান্তি হালদার (৪২) সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা। তিনি প্রতারক চক্রের অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় বাংলাদেশ হতে রোমানিয়ায় উচ্চ বেতনে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরী দেয়ার নাম করে ভিকটিম এবং তাদের অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করে প্রথমে পাসপোর্ট এবং প্রাথমিক খরচ বাবদ ভিকটিমসহ আরো ২ জনের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয়। তারপর ওর্য়াক পারমিট, পরিবহন খরচ, ভিসা প্রসেসিং, মেডিকেল খরচ, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি খরচের কথা বলে আসামীরা ধাপে ধাপে ভিকটিমদের নিকট হতে ব্যাংক হিসাব ও নগদে সর্বমোট ২১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে।
পরবর্তীতে, আসামীরা ভিকটিমদের যথাসময়ে বিদেশ নিতে না পারায় ভিসা যাচাইয়ের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল করে জানতে পারে আসামীদের কর্তৃক প্রদত্ত সমস্ত কাগজপত্র ভুয়া। প্রতারণার এই ঘটনাটি সিলেটসহ দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এরই প্রেক্ষিতে আসামীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-৯ চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ছায়া
তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিএসসি,
সিলেট এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ দুপুর অনুমান ১৩.০৫ সময় এসএমপি-সিলেট এর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের মূলহোতা সজিব কান্তি পাল’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানার টেকেরহাট এলাকার বাসিন্দা। উক্ত প্রতারক চক্রের অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, “ওগচঅঈঞ এখঙইঅখ” নামক ট্্রাভেল এজেন্সির
সাথে ধৃত আসামীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ধৃত আসামীর ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং। এজেন্সি পরিচালনার কোন লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। স্বল্প সময়ে, বিনাশ্রমে অধিক অর্থ উপার্জনই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। ইতোমধ্যে বিগত বছরগুলোতে উক্ত প্রতারক চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নাম করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।